
ভারতে চলতি মৌসুমি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে জুলাই মাস থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লাখো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, প্রতি বছর মৌসুমি বৃষ্টি ভারতের কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষার ধরণ আরও অনিয়মিত, অনিশ্চিত ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর একটি আসামে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এর মধ্যে শিবসাগর জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ জন। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, এ অঞ্চলে এমন ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ আগে দেখা যায়নি। অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও প্রিয়জন হারানোর ক্ষতি পূরণ করা যায় না।
সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, অনেক মানুষ ভেলা ও ফোলানো নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
দক্ষিণের কেরালা রাজ্যেও টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। রাজ্যে ৩০০টির বেশি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে, যেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে স্বল্প সময়ের প্রবল বর্ষণে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার থেকে পূর্বাঞ্চলের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বজ্রপাতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ধানক্ষেতে কাজ করা কৃষক ও গবাদিপশু চরানো মানুষ। তাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর বর্ষাকালে ভারতে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ ঘটলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।