
ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ হলেও সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা এসব গাড়ির দখলে থাকে। যানজটের কারণে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত যান্ত্রিক যানবাহনের কারণে বায়ু ও শব্দদূষণ বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গণপরিবহণ, সাইকেল ও হেঁটে চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ‘কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী’ শীর্ষক সাইকেল র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিভাগ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে বক্তারা ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভরতা কমিয়ে সবার জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, নগরে স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের গবেষণা সহকারী সাজ্জাদুর রহমান সাগরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. আলাউদ্দিন চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুল হক মজুমদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইনোভেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহসান এবং ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী। পরে অংশগ্রহণকারীরা সাইকেল র্যালির মাধ্যমে ক্যাম্পাস পরিভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল চালানো ও হাঁটার পথ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ক্যাম্পাসের ভেতরে চলাচলের জন্য গণপরিবহণ ও সাইকেল ব্যবহারের ব্যবস্থা রেখেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে।
কর্মসূচি থেকে জনবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি নিরাপদ সাইকেল লেন ও সমন্বিত সাইকেল নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাইকেলের যন্ত্রাংশের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও কর কমানোর দাবিও জানান আয়োজকেরা।