
পেপিটাস নামেও পরিচিত কুমড়োর বীজ শুধু পুষ্টিগুণে নয়, রন্ধনশৈলীতেও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনে সমৃদ্ধ এই বীজের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ভাজা খাবার, তেল এবং প্রোটিন পাউডার তৈরিতে ব্যবহৃত কুমড়োর বীজকে কেন্দ্র করে বিশ্বে একটি শক্তিশালী কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
শীর্ষ উৎপাদক দেশসমূহ

চীন
চীন কুমড়োর বীজ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ। ২০২৪ সালে দেশটি ৭ লক্ষ ১১ হাজার টনেরও বেশি কুমড়োর বীজ উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০% বেশি। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তি এ উৎপাদন বৃদ্ধির মূল কারণ।
ভারত
ভারতও কুমড়োর বীজ উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে। অনুকূল জলবায়ু ও বিশাল কৃষিজমি দেশটিকে কুমড়ো উৎপাদনের জন্য উপযোগী করেছে। যদিও সুনির্দিষ্ট উৎপাদন পরিসংখ্যান পরিবর্তনশীল, তবুও ভারত ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরা উৎপাদকদের তালিকায় রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে ইলিনয় এবং ওরেগনে কুমড়ো বীজের উৎপাদন বেশি হয়। দেশের প্রায় ৯০% থেকে ৯৫% কুমড়ো উৎপাদন হয় ইলিনয়ে, যা প্রধানত বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে কুমড়ো শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
রাশিয়া
রাশিয়ায় কুমড়ো চাষের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বিস্তৃত কৃষিজমি ও কৃষি প্রযুক্তি দেশটিকে উল্লেখযোগ্য কুমড়োর বীজ উৎপাদনকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইউক্রেন
উর্বর মাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে ইউক্রেনও কুমড়ো ও কুমড়োর বীজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে উৎপাদনের দিক থেকে দেশটি রাশিয়ার তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে।
উৎপাদনকে প্রভাবিতকারী কারণ

১. জলবায়ু পরিস্থিতি – উষ্ণ আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সূর্যালোক কুমড়ো চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
২. কৃষি অনুশীলন – উন্নত শস্য ঘূর্ণন, সেচ ও কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা উৎপাদন বাড়ায়।
৩. অর্থনৈতিক কারণ – দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ চাহিদা উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে।
৪. গবেষণা ও উন্নয়ন – উচ্চফলনশীল জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব

কুমড়োর বীজ শিল্প বহু দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। চীন ও ভারতে এ শিল্প লাখ লাখ কৃষকের জীবিকা নির্বাহের উৎস। শুধু ভাজা বীজ নয়, কুমড়ো থেকে তৈরি তেল ও প্রোটিন পাউডার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে রপ্তানি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে ইলিনয়ের কুমড়ো শিল্প স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, চীন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কুমড়ো বীজ উৎপাদনকারী দেশ, আর ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনও বৈশ্বিক উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।