ঢাকাবুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

বিশ্ববাজারে চাহিদা কমায় কোকোর দাম দুই বছরের সর্বনিম্নে—বিপাকে কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ । ১০৩ জন

বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্টে বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাবে রফতানি কমে গেছে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দুয়েকুয়েসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গুদামে প্রধান মৌসুমের কোকোর মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

দুয়েকুয়ে শহরের সমবায় নেতা সেকু দাগনোগো জানান, তার গুদামে কোকোর বস্তা এখন ছাদ ছুঁইছুঁই। কয়েক মাস ধরেই পরিস্থিতির উন্নতি নেই। রফতানি স্থবির থাকায় কৃষকদের পাওনা পরিশোধ করা যাচ্ছে না, ফলে ঋণের বোঝা বাড়ছে। অনেক সমবায় এখন সরকারি কফি ও কোকো কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।

২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমের শুরুতে সরকার কোকোর সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য (ফার্মগেট প্রাইস) প্রতি কেজি ২ হাজার ৮০০ সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ৫ ডলার ৯ সেন্ট) নির্ধারণ করে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে কোকোর দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

রফতানিকারকদের ভাষ্য, বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত দামে কোকো কেনা তাদের জন্য লাভজনক নয়। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের কমে কেনা নিষিদ্ধ, তবু মাঠপর্যায়ে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

রেমিপ্রো গ্রামের কৃষক ফ্রেডেরিক কুয়াসি জানান, অনেক ক্রেতা কেজিপ্রতি মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ সিএফএ ফ্রাঁ প্রস্তাব করছেন। অর্থসংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে কোকো বিক্রি করছেন। সামনে এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মৌসুমের মধ্য ফসল আসার আগে পুরনো মজুদ সরাতে না পারলে গুণমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জানুয়ারিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক লাখ টন কোকো সরাসরি ক্রয়ের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিকূল গুদামজাত পরিবেশে কোকোর মান বজায় রাখতে চলতি মাসে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশ্বাস দিয়েছেন, সমবায়ীদের কাছ থেকে অবিক্রীত কোকো কিনে নিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।