ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএমইউতে এআই স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ । ১২৫ জন

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) নেতৃত্ব দেবে-এটাই কামনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিএমইউতে অনুষ্ঠিত ‘এআই: উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের কমস্যাটস ইউনিভার্সিটি ইসলামাবাদের একাডেমিক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং তমঘা-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কারপ্রাপ্ত ডা. হাম্মাদ ওমর। সেমিনারে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এআই-এর ভূমিকা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন, গবেষণার অগ্রাধিকার, সহযোগিতামূলক পথচিহ্ন, প্রযুক্তি-সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ডা. হাম্মাদ ওমর বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যৎ নয়; এটি বর্তমানের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নতুন স্তরে উন্নীত করার শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাদেশে এর প্রয়োগ বাড়াতে গবেষণা সহযোগিতা ও নীতি-সমন্বয় জরুরি। চিকিৎসা-শিক্ষা, গবেষণা ও রোগীসেবায় এআই-সমর্থিত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।”

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “মেডিকেল সেক্টরের সব ক্ষেত্রে এআই অবদান রাখতে পারে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিএমইউ নেতৃত্ব দেবে—এটাই কাম্য। এখানে প্রচুর রোগী ও ডাটা রয়েছে, যা গবেষণার বিশাল সুযোগ তৈরি করে। দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হলো এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া।”

বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এআই প্রযুক্তির প্রয়োগে রোগ নির্ণয় দ্রুত ও নির্ভুল করা সম্ভব। অনকোলজি, রেডিওলজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে এআই অপরিসীম অবদান রাখতে পারে। তাই চিকিৎসকদেরও এ বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা আবশ্যক।”

সেমিনারে মেডিসিন, সার্জারি এবং প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিনগণও বক্তব্য দেন। বক্তারা দেশীয় গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ডেটা ম্যানেজমেন্ট, মেশিন-লার্নিং, রোবোটিক সাপোর্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিএমইউকে এআই প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পাবলিক হেলথ ইনফরমেটিকস বিভাগের ডা. ফারজানা ইসলাম ও ডা. এসএম শহীদুল হক রাহাত। অনুষ্ঠানে নিউনেটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও রেসিডেন্টরাও উপস্থিত ছিলেন।