
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ও ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি (ডাস) এর যৌথ উদ্যোগে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরে বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সভাকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিআরটিসির ৩৫ জন ড্রাইভিং প্রশিক্ষক অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, পাবলিক পরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পাশাপাশি চালকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চালকদের ধূমপানমুক্ত জীবনযাপন শুধু ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিই পরিবর্তন করবে না, বরং যাত্রীদের জন্যও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। এজন্য প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।
বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ইউনিট প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. মশিউজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিসির পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) ও যুগ্ম সচিব মো. রাহেনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য দেন ডাস-এর প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট লিড দোয়া বখশ শেখ, বিইআর-এর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং টিসিআরসি’র প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা। সঞ্চালনা করেন ডাস-এর প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু।
কর্মশালার প্রথমাংশে ধূমপান ও তামাকসেবনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং দ্বিতীয়াংশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পরে সবার হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চালকদের পাশাপাশি প্রশিক্ষকদেরও তামাকমুক্ত জীবনযাপন ও আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজস্ব সচেতনতাই পারে তামাকমুক্ত জীবন গড়তে সহায়তা করতে।” তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, ভবিষ্যতে বিআরটিসির সকল প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির সময় ধূমপায়ীদের ভর্তি না করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের শুরু ও শেষে দুই দফা জরিপ করে প্রশিক্ষণার্থীদের ধূমপান অভ্যাস যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।