ঢাকারবিবার , ১৪ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

বহুস্তরভিত্তিক কর কাঠামো জটিল করছে ‘তদুর্ধ্ব’ শব্দ, রাজস্ব ফাঁকি বাড়ছে

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৫ আগস্ট ২০২৫, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

Link Copied!

বর্তমানে সিগারেটের কর কাঠামো ৪ স্তরভিত্তিক (নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতিউচ্চ)। তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ ও তামাক বিরোধী জোট দীর্ঘদিন থেকে এ কর কাঠামো কমিয়ে ২ স্তরে নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু বাজটে প্রস্তাবে “ নিম্ন স্তর ৪৫ টাকা ও তদুর্ধ্ব” এভাবে উল্লেখ করায় নিম্ন স্তরসহ প্রতিটি স্তরেই আলাদা আলাদা দামের নতুন নতুন সিগারেট বাজারে আনার সুযোগ পায়। একারণে ৪ টি স্তরের মধ্যে আরও ২/ ৩ ধরনেরও মূল্যের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। যা বহুস্তর বিশিষ্ট জটিল কর কাঠামোর আরও জটিল করে তুলেছে।

সরকার চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিগারেটের যে দাম নির্ধারণ করেছে তাহলো, নিম্ন স্তরে প্রতি ১০ শলাকা ৪৫ টাকা ও তদুর্ধ্ব, মধ্যম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা ৬৭ টাকা ও তদুর্ধ্ব, উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকা ১১৩ টাকা ও তদুর্ধ্ব এবং অতিউচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা ও তদুর্ধ্ব। আর তদুর্ধ্ব শব্দের কারণে বৈধভাবেই তামাক কোম্পানি নিম্ন স্তরে ব্রান্ড ভেদে ৪৫ টাকার সিগারেটের পাশাপাশি ১০৬ টাকা ও ১১৪ টাকা মূল্যে সিগারেট বাজারজাত করছে। একইভাবে মধ্যম স্তরে ৬৭ টাকা ও ৭০ টাকার প্যাকেট, উচ্চ স্তরে ১১৮ টাকার এবং অতিউচ্চ স্তরে ১৫৫ টাকা ও ১৬০ টাকা নির্ধারণ বাজারে বিক্রি বাড়তি মুনাফা করছে এবং বিশাল অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিতে পারছে। সবোর্চ্চ খুচরা মূল্যের জায়গায় সবোর্চ্চ ফেলে দিয়ে বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিল সিগারেট কোম্পানিগুলো। ঠিক একইভাবে মূল্য র্নিধারণে তদুর্দ্ধ শব্দ থাকায় তারা একই স্তরে একই রকম সিগারেটের নাম হেরফের করে আরও ২/৩ ধরনের দামের সিগারেট বিক্রি করছে অত্যন্ত কৌশলে।

অর্থাৎ তদুর্ধ্ব শব্দটি না থাকলে চার স্তরে সিগারেটের মূল্য হতো যথাক্রমে ৪.৫ টাকা, ৬.৭ টাকা, ১১.৩ টাকা ও ১৫ টাকা। কিন্তু তদুর্ধ্ব শব্দটির কারণে বর্তমানে বাজারে আট ধরনের মূল্যের সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো হলো ৫, ৬, ৭, ৮, ১০, ১৩, ১৮ ও ২০ টাকার। অর্থাৎ তদুর্ধ্ব শব্দের কারণে বাজারে সিগারেট আরও সহজলভ্য হয়েছে। এবং চাইলেই ভোক্তারা সহজেই ব্রান্ড পরির্তন করতে পারে।

তদুর্ধ্ব শব্দের কারণে এমআরপি আইন ভঙ্গ ও ইচ্ছা মতো মূল্যে সিগারেট বিক্রি করতে উৎসাহিত হচ্ছে তামাক কোম্পানি : বাংলাদেশে সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশ খুচরা শলাকায় বিক্রি হয়। আর এটাকেই পুঁজি করেই তামাক কোম্পানি দীর্ঘদিন থেকে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করে বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। সেটার সত্যতা পেয়ে চলতি অর্থবছরেই সরকার এমআরপি আইন মানতে আইনে সংশোধন এনেছে। কিন্তু তামাক কোম্পানি এমআরপি আইন ভঙ্গ অব্যাহত রেখেছে। যার প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে বাজেট প্রস্তাবে উল্লিখিত তদুর্ধ্ব শব্দটি। কারণ এই শব্দের কারণেই বেজড় ও পয়সায় সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ করছে তারা। একইসঙ্গে প্রতি শলাকার মূল্য নিজেরাই ঠিক করছে তামাক কোম্পানি। যা প্যাকেটে মুদ্রিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে প্রতি শলাকা সিগারেট বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে ক্রেতারা।

উদাহরণ: চলতি অর্থবছরে নিম্ন স্তরের কয়েকটি ব্রান্ড ছাড়া অন্যান্য সব স্তরের সিগারেট তদুর্ধ্ব শব্দের সুযোগ নিয়ে সুবিধা অনুযায়ী দাম ঠিক করেছে তামাক কোম্পানি। ৮ বছর আগে বিএটিবি তাদের রয়েলস সিগারেট দিয়ে তদুর্ধ্ব শব্দের সুযোগ নিয়ে সরকারের বেধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বাজারে ছাড়ে। সেটা সফলতা পেয়ে চলতি অর্থবছরে প্রায় সবগুলো সিগারেটের ক্ষেত্রেই তারা একই উপায় অবলম্বন করেছে।

গত অর্থবছর রয়েলস সিগারেটের মূল্য ১০৪ টাকা ছিলো। এবার ব্রান্ড ঠিক রেখে রয়েলসের পরে লন্ডনকাট শব্দ জুড়ে দিয়ে নতুন আরেকটি ব্রান্ড বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। রয়েলস লন্ডন কাট সিগারেটের ২০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১১৪ টাকা রাখা হলেও বাজারে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর প্রতি শলাকা ৭ টাকা বিক্রি নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। অর্থাৎ সরকার বাকি ২৬ টাকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

তদুর্ধ্ব শব্দের কারণে মূল্য বৃদ্ধি অনিহা তামাক কোম্পানির:
প্রতিবছর সরকার সিগারেটের মূল্য বাড়াতে চাইলেও তামাক কোম্পানি মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য নানা ধরনের কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। কারণ এতে সরকারের রাজস্ব আদায় খানিকটা বাড়লেও সিগারেট কোম্পানি ফুলে ফেঁপে মুনাফা করার সুযোগ পায়। কারণ যেভাবে বহুস্তরে মূল্য নির্ধারণ এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করা হয় তাতে তামাক কোম্পানির ব্যবসা বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে বাধ্য। আর এসবই সম্ভব হচ্ছে বাজেট প্রস্তাবে তদুর্ধ্ব শব্দের উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারের কারণে।

ফলে, এমপি সংশোধনের মতো, বাজেট প্রস্তাবে সিগারেটের মুল্য ও কর নির্ধারণ তদুর্দ্ধ শব্দটি বাদ দেয়া জরুরী। এতে করে কারসাজি করে একই স্তরের থেকে বাড়তি দামে সিগারেটে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা ও কর ফাঁকি বন্ধ করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যের প্রস্তাবিত গবেষণাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসাবে ভূমিকা রাখবে বাজেট প্রস্তাব সংশোধনে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস

লঘুচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস, কয়েক বিভাগে হতে পারে ভারী বর্ষণ

কুয়েতে আরও ২,১৯৩ জনের নাগরিকত্ব বাতিল

পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবায় ডিএমপির ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’

দেশের ১০ জেলায় চালু হচ্ছে নতুন আইসিইউ, কমবে রাজধানীর হাসপাতালের চাপ

ফরিদপুরে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

কার্বনের ৮০ গুণ গতিতে পৃথিবীকে পুড়িয়ে মারছে যে গ্যাস

মধ্যরাতের মধ্যে ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৭৯৬ রোগী

দেশীয় তৈলবীজে ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতি

টঙ্গী ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২