
# প্রতি বর্গকিলোমিটারে বজ্রপাতে মৃত্যুর হারে এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশ
# তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেবায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ও বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ছে
# উলম্বভাবে গড়ে ওঠা বিশেষ মেঘই ভয়ংকর বজ্রপাতের প্রধান উৎস
# একটি বজ্রপাতে সূর্যের উপরিভাগের চেয়েও পাঁচ গুণ বেশি তাপমাত্রা থাকে
# বছরের মোট বজ্রপাতের ৯৩ শতাংশই ঘটে মার্চ থেকে জুন মাসে
# উঁচু গাছ উজাড় হওয়ায় খোলা মাঠে কৃষকরা সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে
# দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
#বজ্রপাতে নিহতদের সিংহভাগই হাওর অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক ও মৎস্যজীবী
#ভয়াবহতা বিবেচনায় ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি
#মেঘালয় পাহাড়ের বাধায় মেঘ ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত বাড়ায়
হাসান মাহমুদ: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম প্রতাপপুর। গত ২৬ এপ্রিল সকালে যখন আকাশ কালো করে মেঘ জমছিল, কৃষক রহমত আলী (৪৫) তখন ব্যস্ত ছিলেন নিজের শেষ সম্বল— খেতের বোরো ধান ঘরে তুলতে। বাড়ির উঠানে স্ত্রী সালেহা বেগম অপেক্ষা করছিলেন দুপুরের খাবারের জন্য। কিন্তু রহমত আলী আর ফেরেননি। এক ঝলক তীব্র আলোর সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দে যখন চারপাশ কেঁপে উঠল, রহমত আলী তখন মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন দিশেহারা সালেহা আর তার তিন সন্তান।
রহমত আলীর রক্তে ভেজা ধান এখন শোঁ শোঁ বাতাসে উড়ছে, আর সালেহার কান্না ভারী করে তুলেছে হাওরের বাতাস। গত এপ্রিলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রপাতে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষ করে গত ২৬ এপ্রিল এক দিনেই ১৪ জন কৃষকের অকাল মৃত্যু হয়। বজ্রপাত এখন কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন ‘মহামারি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবে বজ্রপাত এখন দেশের মানুষের জন্য এক আতঙ্কিত নাম।
বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
বিজ্ঞানের ভাষায়, বজ্রপাত হলো বায়ুমণ্ডলে থাকা মেঘের ভেতরে পুঞ্জীভূত স্থির বিদ্যুতের একটি বিশাল ও শক্তিশালী নিঃসরণ। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী স্প্রিঙ্গার এবং ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ক্লাইমাটোলজি-তে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর স্থানিক ও কালানুক্রমিক বিশ্লেষণ’ শিরনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি ১৯৮১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছরের উপাত্ত এবং মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়েছে। এই গবেষণায় প্রধান গবেষক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের অধ্যাপক গবেষক ড. আশরাফ দেওয়ান।
ড. আশরাফ দেওয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থায় মেঘের ভেতর বিপুল পরিমাণ আধান বা চার্জ তৈরি হয়। এই আধান যখন বাতাসের বাধা অতিক্রম করে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে, তখন তাকে আমরা বজ্রপাত বলি। এটি অত্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজ সম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ, যা কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বজ্রপাত গবেষণায় অন্যতম পথিকৃৎ ড. মার্টিন এ. উমান বলেন, বজ্রপাত হলো বায়ুমণ্ডলের পুঞ্জীভূত বৈদ্যুতিক আধানের একটি আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী উচ্চ-প্রবাহ সম্পন্ন নিঃসরণ, যা মেঘের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে অথবা মেঘ ও ভূপৃষ্ঠের মধ্যবর্তী বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়। একটি সাধারণ বজ্রপাতে প্রায় ৩০ হাজার অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে এবং এর তাপমাত্রা হতে পারে প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রার চেয়েও পাঁচ গুণ বেশি।
বজ্রপাত সৃষ্টির প্রক্রিয়া:
বজ্রপাত আসলে বায়ুমণ্ডলের পুঞ্জীভূত স্থির বিদ্যুতের এক বিশাল ও শক্তিশালী নিঃসরণ। এর সৃষ্টির মূলে রয়েছে বায়ুমণ্ডলে থাকা জলীয় বাষ্প এবং ‘কিউমুলোনিম্বাস’ নামক বিশাল বজ্রগর্ভ মেঘ। আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘থিওরেটিক্যাল অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড ক্লাইমাটোলজি’-তে প্রকাশিত ড. আশরাফ দেওয়ান ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
আধান বিভাজন: মেঘের ভেতরে যখন উষ্ণ বাতাস দ্রুত উপরে উঠে যায়, তখন সেখানে থাকা অতিশয় শীতল জলকণা ও বরফকণার মধ্যে প্রবল বেগে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘর্ষণের ফলে স্থির বিদ্যুৎ তৈরি হয়; যেখানে হালকা ধনাত্মক চার্জ মেঘের ওপরে এবং ভারী ঋণাত্মক চার্জ মেঘের নিচে জমা হয়।
বিভব পার্থক্য: মেঘের নিচের স্তরে যখন বিপুল পরিমাণ ঋণাত্মক চার্জ জমা হয়, তখন তা ভূপৃষ্ঠে তার বিপরীত বা ধনাত্মক চার্জ তৈরি করে। এর ফলে মেঘ ও মাটির মধ্যে এক বিশাল বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বা বিভব পার্থক্যের সৃষ্টি হয়।
বিদ্যুৎ নিঃসরণ: যখন এই ভোল্টেজ বায়ুমণ্ডলের সহ্যক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়, তখন মেঘ থেকে একটি অদৃশ্য বিদ্যুতের ধারা (লিডার) নিচের দিকে নামে এবং মাটি থেকে একটি পাল্টা ধারা ওপরের দিকে উঠে সংযোগ স্থাপন করে। কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে এই বিশাল বিদ্যুৎ শক্তি তীব্র আলোকচ্ছটা ও কান ফাটানো শব্দসহ মাটিতে আছড়ে পড়ে, যাকে আমরা বজ্রপাত বলি।
সহজ কথায় বললে, তীব্র গরমে হালকা বাতাস প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে উপরে উঠে যখন বিশাল মেঘ তৈরি করে, তখন মেঘের ভেতরের কণাগুলোর ঘর্ষণে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ শক্তিই আলোর ঝলকানি হয়ে মাটিতে নেমে আসে। এই বিশাল বৈদ্যুতিক প্রবাহটি কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে, যা সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
বজ্রপাতে বাংলাদেশের অবস্থান:
আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, সামগ্রিকভাবে এশিয়ায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘনত্বের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন শীর্ষ অবস্থানে। যদিও আয়তনের কারণে ভারত ও চীনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেশি, কিন্তু প্রতি বর্গকিলোমিটারে বজ্রপাতে কতজন মানুষ মারা যান—সেই হিসাবে বাংলাদেশ এশিয়ায় প্রথম। নাসার এক গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যোদয় থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ে বজ্রপাতের ঘটনার হার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। এই সময়েই দেশের লাখ লাখ কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ খোলা মাঠে বোরো ধান কাটা বা মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকেন। প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষার অভাব এবং প্রান্তিক মানুষের অসচেতনতার কারণে এই সময়টিই দেশের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে বজ্রপাতের ‘পিক সিজন’ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়:
আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘থিওরেটিক্যাল অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড ক্লাইমাটোলজি’ -তে প্রকাশিত গবেষণায় বাংলাদেশের বজ্রপাতের সময়কাল ও প্রকৃতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
৯৩ শতাংশ বজ্রপাত হয় ৪ মাসে: অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ানের নেতৃত্বাধীন দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বছরের মোট বজ্রপাতের প্রায় ৯৩ শতাংশই ঘটে মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে। গবেষকরা একে বজ্রপাতের ‘পিক সিজন’ বা প্রধান মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস: তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, মে মাসে বজ্রপাতের তীব্রতা থাকে সর্বোচ্চ। এই মাসকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরেই এপ্রিল ও জুন মাসের অবস্থান।
দিনের বিপজ্জনক সময়: গবেষণায় দিনের ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই সময়ে সূর্যের তাপে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা ও অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় ‘বজ্রগর্ভ মেঘ’ দ্রুত তৈরি হয়।
ভৌগোলিক হটস্পট: উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা দেখেছেন, হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলা বজ্রপাতের প্রধান ‘হটস্পট’। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ হওয়ায় এই অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক বেশি।
যেসব মেঘে বজ্রপাত হয় (বজ্রমেঘ):
গবেষণায় দেখা গেছে, সব মেঘ বজ্রপাত ঘটায় না; কেবল ‘কিউমুলোনিম্বাস’ নামক বিশেষ ধরনের মেঘই এই ভয়ংকর বিদ্যুৎ নিঃসরণের জন্য দায়ী। এই বজ্রমেঘ চেনার কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিশাল উলম্ব উচ্চতা: নাসার আর্থ অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মেঘ সমান্তরাল হলেও বজ্রমেঘ বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ খাড়াভাবে ওপরের দিকে ওঠে। বাংলাদেশে প্রাক-বর্ষা মৌসুমে এই মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ থেকে ২২ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মেঘ যত বেশি উঁচু ও খাড়া হবে, বজ্রপাতের শক্তি তত তীব্র হবে।
নেহাই বা ফুলকপি আকৃতি: আবহাওয়াবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে, এই মেঘের ওপরের অংশ যখন বায়ুমণ্ডলের একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছায়, তখন এটি আর ওপরে উঠতে না পেরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মেঘের চূড়াটি কামারের ‘নেহাই’ বা বিশাল ফুলকপির মতো আকার ধারণ করে। আকাশে এমন আকৃতির মেঘ দেখা দিলে বুঝতে হবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বজ্রঝড়।
ঘন কালো রঙের ভিত্তি: গবেষণায় দেখা গেছে, বজ্রমেঘের ভেতরে জলীয় বাষ্প ও বরফকণার ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি থাকে, যা সূর্যের আলো চলাচলে বাধা দেয়। এর ফলে মেঘের নিচের অংশ গাঢ় কালো বা স্লেট রঙের দেখায়। মেঘের নিচের দিকটা যত বেশি অন্ধকার ও নিচু মনে হবে, বজ্রপাত ও ঝড়ের আশঙ্কা তত বেশি।
আকস্মিক তাপমাত্রার পরিবর্তন ও দমকা হাওয়া: আবহাওয়া গবেষণার তথ্যমতে, বজ্রমেঘ যখন কাছাকাছি আসে, তখন মেঘের ভেতরের শীতল বাতাস প্রবল বেগে নিচে নেমে আসে। ফলে বজ্রপাতের ঠিক আগমুহূর্তে হঠাত বাতাসের তাপমাত্রা কমে যায় এবং দমকা হাওয়া বইতে শুরু করে। এটিই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার শেষ সংকেত।
বাংলাদেশে বজ্রপাত বেশি হওয়ার কারণ:
অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ানের নেতৃত্বে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বজ্রপাতের মরণঘাতী প্রভাব বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় ভয়াবহ।
ভৌগোলিক কারণ: বাংলাদেশের উত্তরে বিশাল হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর। হিমালয় থেকে আসা শীতল বাতাস এবং সাগর থেকে আসা উষ্ণ-আর্দ্র বাতাসের মিলনস্থল ঠিক বাংলাদেশের আকাশ। এই দুই বিপরীতধর্মী বাতাসের সংঘাতের ফলে এখানে ‘মেসোস্কেল কনভেক্টিভ সিস্টেম’ তৈরি হয়, যা ভয়াবহ বজ্রপাত ঘটায়।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) গত ৫০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড় বার্ষিক তাপমাত্রা প্রায় ০.৫ থেকে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বায়ুমণ্ডল যত উত্তপ্ত হয়, এটি তত বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, যা মেঘের বিদ্যুতায়নের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবী ও গ্রহ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড রোমানি-র নেতৃত্বে পরিচালিত— ‘প্রজেক্টেড ইনক্রিজ ইন লাইটনিং স্ট্রাইকস ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ডিউ টু গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ শিরোনামের গবেষণায় বজ্রপাতকে গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের আশঙ্কা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। বিষয়টি এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা বিশ্বগড়ের চেয়েও দ্রুত বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানেই বায়ুমণ্ডলে বাড়তি শক্তির সঞ্চার, যা বজ্রপাতকে আরও বেশি মরণঘাতী করে তুলছে।
উঁচু গাছের সংকট: আগে গ্রামবাংলায় তালগাছ, সুপারি গাছ বা বটগাছ ছিল প্রচুর। এই গাছগুলো প্রাকৃতিকভাবে ‘আর্থিং’ হিসেবে কাজ করত। বজ্রপাত হলে তা সরাসরি ওই উঁচু গাছ দিয়ে মাটিতে চলে যেত। বর্তমানে বন উজাড় এবং গাছ কাটার ফলে খোলা মাঠে থাকা মানুষই এখন সবচেয়ে উঁচু বিন্দু হিসেবে কাজ করে।
হাওরাঞ্চলের বিশেষত্ব: সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বিশাল হাওর এলাকায় কোনো উঁচু কাঠামো না থাকায় বজ্রপাত সরাসরি সমতল ভূমিতে আঘাত হানে, যেখানে কৃষকরা কাজ করেন।
দেশের যেসব এলাকায় বজ্রপাত বেশি হয়:
ড. আশরাফ দেওয়ান ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ গবেষণা সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে ‘বজ্রপাত হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’: গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় সুনামগঞ্জ জেলায়। এখানে নিহতদের ৭০ শতাংশই কৃষক এবং মৃত্যুর হার পুরুষদের মধ্যে বেশি ৮৫ শতাংশ। গবেষকরা দেখেছেন যে, কৃষকরা যখন বোরো ধান কাটতে মাঠে থাকেন, ঠিক সেই সময়েই বজ্রপাত সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। এরপরই রয়েছে সিলেট। এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো উত্তরের মেঘালয় পাহাড়ের অবস্থান। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বাতাস যখন পাহাড়ের গায়ে বাধা পায়, তখন সেখানে দ্রুত ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা বজ্রমেঘ তৈরি হয়, যা এই অঞ্চলে প্রবল বজ্রপাত ঘটায়।
হাওর অঞ্চল: সুনামগঞ্জ ও সিলেটের পর বজ্রপাতের সবচেয়ে বেশি প্রবণতা দেখা যায় নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলায়। বিশাল উন্মুক্ত জলাভূমি বা হাওর এলাকা হওয়ায় এখানে মেঘ তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প পাওয়া যায়। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, এই চারটি জেলা (সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ) দেশের প্রধান বজ্রপাত প্রবণ অঞ্চল।
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল: বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলাও বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। ফলে এখানে প্রায়ই বজ্রপাতে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর এবং সাতক্ষীরা অঞ্চলেও বজ্রপাতের ঘনত্ব বেশি দেখা যায়।
অধ্যাপক আশরাফ দেওয়ানের ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ক্লাইমাটোলজিতে প্রকাশিত ‘লাইটনিং অ্যাক্টিভিটি অ্যাসোসিয়েটেড উইথ প্রিসিপিটেশন অ্যান্ড কেপ ওভার বাংলাদেশ’ শিরনামের গবেষণা প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, বাংলাদেশে বজ্রপাত বৃদ্ধির পেছনে সিএপিই (কনভেক্টিভ অ্যাভেইলেবল পটেনশিয়াল এনার্জি) বা বায়ুমণ্ডলের অস্থির শক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। মে মাসে বাংলাদেশের ওপর এই শক্তির পরিমাণ সর্বোচ্চ থাকে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হয়— কারণ সেখানে আর্দ্রতা ও পাহাড়ের অবস্থান মেঘকে ঘনীভূত হতে সাহায্য করে।
বজ্রপাতের শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক প্রভাব:
বজ্রপাত যখন আঘাত হানে, তখন সেখানে প্রধানত তিনটি ঘটনা ঘটে। সেগুলো হলো:
অকল্পনীয় তাপ ও আলো: একটি গড়পড়তা বজ্রপাতে প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উৎপন্ন হয়, যা সূর্যের উপরিভাগের চেয়েও ৫ গুণ বেশি। এর আলো এতই তীব্র যে সরাসরি তাকালে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ: মানুষের শরীরে সরাসরি বজ্রপাত হলে হৃৎপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবস্থা মুহূর্তেই অকেজো হয়ে যায়। এতে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটে।
পার্শ্বীয় ঘাত: অনেকে মনে করেন গাছের নিচে আশ্রয় নিলে বাঁচা যাবে, কিন্তু বজ্রপাত যখন গাছে পড়ে, তখন তা পাশে থাকা মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। একে ‘সাইড ফ্ল্যাশ’ বলা হয়।
শব্দ তরঙ্গ: তীব্র তাপে আশেপাশের বাতাস হঠাৎ প্রসারিত হওয়ায় প্রচণ্ড শব্দের সৃষ্টি হয়। এতে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে বা স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে।
গবেষক ও গবেষকদের বক্তব্য:
গবেষক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, বজ্রপাত এখন বাংলাদেশের জন্য একটি নীরব ঘাতক। সরকার ২০১৬ সালে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ে এর সমাধান এখনও অনেক দূরে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আমাদের একটি সমন্বিত সুরক্ষা পরিকল্পনা দরকার। শুধু গাছ লাগানোই সমাধান নয়, কারণ তালগাছ বড় হতে দীর্ঘ সময় লাগে। আমাদের এখন প্রযুক্তিগত সমাধানে যেতে হবে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা—উভয়ই বাড়ছে। বিশেষ করে প্রাক-বর্ষা মৌসুমে (মার্চ-মে) যখন বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প এবং স্থলভাগের প্রচণ্ড তাপের মিলন ঘটে, তখন আকাশে বিশাল আকৃতির ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। এই মেঘ যত শক্তিশালী হয়, বজ্রপাতের আশঙ্কাও তত বেড়ে যায়।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি:
বর্তমানে বজ্রপাতের তীব্রতা যে হারে বাড়ছে, তাতে আগামী এক দশকে প্রাণহানির সংখ্যা আরও দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে বজ্রপাত কেবল বর্ষাকালে হতো, কিন্তু এখন শীতের শেষভাগ বা শরতেও বজ্রপাত দেখা যাচ্ছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের এক বিশৃঙ্খল রূপ। এছাড়া শহরের ভবনগুলোতে ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ না থাকা এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের (স্মার্টফোন) ব্যবহার বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদিও গবেষণায় স্মার্টফোনের সরাসরি প্রভাব নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষার উপায় ও সুপারিশ:
বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় বৈজ্ঞানিক ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা চার স্তরের একটি সমন্বিত পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছেন। তাদের মতে, এই পর্যায়গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সেই চারটি স্তর হলো-
কারিগরি ও অবকাঠামোগত সুপারিশ: এই স্তরের মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবন ও স্থাপনাকে সরাসরি বজ্রপাতের আঘাত থেকে রক্ষা করা। প্রতিটি বহুতল ভবন, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং কলকারখানায় মানসম্মত ‘বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড’ বা লাইটিং অ্যারেস্টার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এছাড়া ভবনের ভেতরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন টিভি, ফ্রিজ বা কম্পিউটারকে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ থেকে সুরক্ষা দিতে ‘সার্জ প্রোটেক্টিভ ডিভাইস’ ব্যবহার করা উচিত। সঠিক গ্রাউন্ডিং বা আর্থিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সরাসরি মাটিতে চলে যেতে পারে।
আর্লি ওয়ার্নিং ও কমিউনিকেশন: বজ্রপাত হওয়ার আগে মানুষকে সতর্ক করার জন্য একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই স্তরের প্রধান কাজ। আধুনিক ডিটেকশন সেন্সর ব্যবহার করে বজ্রপাত হওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে আগাম বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। মোবাইল অ্যাপ, এসএমএস কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ের বিশেষ সংকেত ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত এই তথ্য প্রচার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষক ও জেলেরা যেন খোলা জায়গায় থাকাকালীন দ্রুত এই সতর্কবার্তা পেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন, সেই নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদী প্রাকৃতিক সমাধান: পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর জন্য এটি একটি অত্যন্ত টেকসই ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। বিশেষ করে খোলা মাঠ বা হাওর অঞ্চলের রাস্তার দুই পাশে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ বা অন্য কোনো দ্রুত বর্ধনশীল উঁচু গাছ রোপণ করা প্রয়োজন। উঁচু গাছগুলো প্রাকৃতিক বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং আকাশের বিদ্যুৎকে সরাসরি নিজের মাধ্যমে মাটিতে পৌঁছে দেয়। এই বনায়ন পদ্ধতি বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নীতিমালা: ভৌগোলিক বা কারিগরি সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতাই জীবন বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে বা বজ্রপাতের শব্দ শুনলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কোনো পাকা দালান বা সুরক্ষিত আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। বজ্রপাত চলাকালীন খোলা মাঠ, জলাশয়, বড় গাছ বা ধাতব বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অন্তত ১০০ ফুট দূরে থাকা নিরাপদ। খোলা মাঠে থাকলে এবং আশেপাশে কোনো আশ্রয় না থাকলে উবু হয়ে বসে পড়ুন। মাথার ওপর ছাতা বা ধাতব বস্তু ধরবেন না। নৌকায় থাকলে ছইয়ের নিচে বা পাটাতনের নিচে আশ্রয় নিন। বজ্রপাতের সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল, রাউটার) থেকে দূরে থাকুন-এগুলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বজ্রপাত নিয়ে প্রচলিত মিথ ও বাস্তবতা:
বাংলাদেশে বজ্রপাত নিয়ে নানা ধরণের কুসংস্কার ও মিথ প্রচলিত রয়েছে, যা অনেক সময় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, অনেকে মনে করেন মোবাইল ফোন বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে; কিন্তু বাস্তবতা হলো মোবাইলের রেডিও তরঙ্গ বজ্রপাতকে টানে না, তবে ধাতব অংশের সংস্পর্শে আঘাতের তীব্রতা বাড়তে পারে। একইভাবে, রাবারের জুতা পরলে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকা যায়—এমন ধারণাটিও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ বজ্রপাতের প্রচণ্ড ভোল্টেজ সাধারণ জুতা অনায়াসেই ভেদ করতে পারে। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক ও ভয়ংকর মিথ হলো—বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির হাড় বা শরীরের অংশে অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে এবং তা অত্যন্ত ‘মূল্যবান’। এই অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র কবর থেকে মরদেহ চুরির মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয়, যার কোনো বৈজ্ঞানিক বা বাস্তব ভিত্তি নেই। এছাড়া ‘বজ্রপাত একই জায়গায় দুবার পড়ে না’—এমন ভ্রান্ত ধারণা মানুষকে সচেতন হওয়ার পরিবর্তে আরও বেশি বিপদে ঠেলে দেয়। এসব কুসংস্কার পরিহার করে বৈজ্ঞানিক নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করাই জীবন রক্ষার একমাত্র উপায়।