স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে দেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তরুণরা। তারা প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলিংয়ে সহজবোধ্য তথ্য নিশ্চিতের আহ্বান জানায়।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কারিগরি সহযোগিতায় এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের আয়োজনে তরুণদের নিয়ে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার শিরোনাম ছিল ভবিষ্যতের তরুণদের ক্ষমতায়ন: সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলিং সম্পর্কে ধারণা এবং এফওপিএল নীতি সমর্থন। এতে এ দাবি জানানো হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের প্রেক্ষাপটে এফওপিএল নীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে সহজবোধ্য পুষ্টি লেবেলিং নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্বের ১০টি দেশে বাধ্যতামূলকসহ প্রায় ৫৪টি দেশে বিভিন্ন ধরনের এফওপিএল চালু রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৭১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটে হৃদরোগ, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগে। দেশে ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাটের কারণে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণের ফলে ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিডিউসিং ডিমান্ড ফর আনহেলদি ফুড, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এস এম খলিলুর রহমান।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার তার বক্তব্যে বলেন, প্যাকেটজাত খাবার এবং বর্তমান জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি ৩.৪ অর্জন করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সঠিক জ্ঞান ও সরঞ্জাম দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের এফওপিএল সম্পর্কে সচেতন করে একটি সুস্থ জাতি গঠন করা সম্ভব।
রূহুল কুদ্দুস বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ছে এবং একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হারও বাড়ছে। তাই সচেতন হওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় ফিরে যাওয়া যুব সমাজের প্রথম কাজ হওয়া উচিত।
খলিলুর রহমান বলেন, দেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান মেনে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছে এবং লাভবান হচ্ছে। একইভাবে স্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের মানুষের সুস্থতাও নিশ্চিত করা সম্ভব।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মোড়কজাত খাবারের প্রতি তরুণদের আগ্রহ এবং নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) বৃদ্ধির এই সময়ে তরুণদের জ্ঞান ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য ও ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং সম্পর্কে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব গঠনের ধারণা দেওয়া হয়, যা দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রচার ও নীতিগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
এ সময় সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং-এর কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা।


