
টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রম জোরদারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব দেন।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২০ লাখ গ্রামীণ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ নারী।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতে ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার কেনা হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) জন্য শতভাগ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার এবং পরিচালন ব্যয়ের অংশ ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।