ঢাকামঙ্গলবার , ১০ মার্চ ২০২৬

তেলের দাম বাড়লেও কর কমিয়ে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আছে: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১০, ২০২৬ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ । ৩ জন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে দেশের জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে কিছু নীতিগত সুযোগ রয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষকেরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সিপিডির পরামর্শ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এ কথা বলেন।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও তা স্থানীয় বাজারে কতটা প্রতিফলিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের হাতে বিভিন্ন নীতি উপকরণ রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর মুনাফার বাইরে দেশে জ্বালানির ওপর প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকার এই কর কমিয়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্বালানি আমদানিতে যে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের সুযোগের একটি উদাহরণ পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ডিজেল, অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানির কয়েক সপ্তাহের মজুত রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী কৌশলগত মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই, যা পার্শ্ববর্তী অনেক দেশে রয়েছে। এমন রিজার্ভ থাকলে সংকটের সময় বাজারে সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া সহজ হতো।

তিনি বলেন, বর্তমানে আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’ দেখা যাচ্ছে। এটি বাড়লে যেকোনো দেশের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই বাজারে আস্থা তৈরি করা জরুরি।

সিপিডির এই ফেলো জানান, সরকার বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পট বায়িং করছে এবং ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির চুক্তি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) থেকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমানে দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নবনির্বাচিত সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে।

ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।