
তামাক কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসার ধারা অব্যাহত রাখতে ই-সিগারেটের মতো বিকল্প পণ্যের মাধ্যমে ধূমপায়ীদের নতুন দিকে ধাবিত করছে। আপাতদৃষ্টিতে এসব পণ্য নির্দোষ মনে হলেও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর এক আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি অরুণা সরকারের উপস্থাপন করা একটি গবেষণাপত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, গবেষণালব্ধ এই তথ্যের ভিত্তিতে তামাকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত কর্মীদের কাজের পরিধি এবং মুভমেন্টের কৌশল আরও শাণিত করা প্রয়োজন। এই উদ্যোগে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ প্রথম থেকেই সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, “তামাকবিরোধী আন্দোলন চলছে, ধূমপান নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, এটি ঠিক আছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো যখন বিকল্প পণ্য বের করে ধূমপায়ীদের ডাইভার্ট করে তাদের বাণিজ্যের চক্র বহাল রাখার প্রক্রিয়া চালায়, সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। সাধারণত এগুলোকে খুব নির্দোষ মনে হয়, কারণ এতে দৃশ্যত সিগারেট বা বিড়ি থাকে না। কিন্তু অ্যাডিক্টিভ সাবস্টেন্স (আসক্তিকর উপাদান) ঠিকই থেকে যায়।”
তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ই-সিগারেট তরুণ প্রজন্মকে সহজেই আকর্ষণ করছে। একদিকে এটি একটি বড় ব্যবসা, অন্যদিকে তরুণদের ফ্যাশন চেতনা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত সংযোগ তৈরির সুযোগ-সব মিলিয়ে এর ভয়াবহতা ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
অতীতের উদাহরণ টেনে জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, একসময় চলচ্চিত্রে সাহসী পুরুষ বা নায়ককে বোঝাতে ধূমপানের দৃশ্যকে গ্লোরিফাই (মহিমান্বিত) করা হতো, যার নেতিবাচক প্রভাব তরুণদের ওপর পড়েছিল। বর্তমানে ই-সিগারেটের ব্যবহারও ঠিক একইভাবে তরুণদের মনোজগতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
তামাকবিরোধী এই আন্দোলনকে আরও কার্যকর করতে তিনি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “তরুণ ও কমবয়সী নাগরিকদের মনোজগতের একটি বিষয় এখানে জড়িত। তাই এই আন্দোলনের সঙ্গে এমন বিশেষজ্ঞদের ইনকর্পোরেট (যুক্ত) করা ভালো, যারা তরুণদের মনোজগৎ বুঝতে পারেন। তারা বুঝতে পারবেন এই কার্যক্রমে আর কী কী নতুন কম্পোনেন্ট যুক্ত করা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে মাননীয় সংসদ সদস্য ডক্টর মিলন, ডক্টর রুহুল কুদ্দুসসহ তামাকবিরোধী আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।