
রাজধানীর ব্যস্ততম বাস স্টেশনগুলোতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আজ ঢাকায় একটি কৌশল নির্ধারণী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে এবং আর্ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়, “তামাক-ধোঁয়ামুক্ত শহর (Tobacco Free Cities)” গবেষণা প্রকল্পের আওতায় গুলশান-২ এর হোটেল লেক ক্যাসেলে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করতে গবেষণালব্ধ ফলাফলের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মীর আলমগীর হোসেন বলেন, “রেলওয়ের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে—দৃঢ় নেতৃত্ব, নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে যেকোনো গণপরিবহন কেন্দ্র ধূমপানমুক্ত করা সম্ভব। বাস টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করাই এখন আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত। ”
মহাখালী বাস-টার্মিনাল কেন্দ্রিক ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “চালক, সহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস টার্মিনালের দোকানে তামাক বিক্রির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা গেলে বাস টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করা অনেক সহজ হবে।”
প্রধান অতিথি ডিএনসিসি’র উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, “একসময় গণপরিবহন ও রেস্তোরাঁয় ধূমপান ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য; আজ মানুষ তা মেনে নেয় না। এই পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ সমাজকে বদলে দিতে পারে। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বাস-টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করা হবে।“
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা মাহমুদা আলী, বাস টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ্য থেকে প্রয়োজনীয় নোটিশ, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা কার্যক্রম ও আইন প্রয়োগে সর্বাত্মক সহযোগিতা আশ্বাস প্রদান করেন।
কর্মশালায় দলগত আলোচনা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে বাস টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকটি সমন্বিত পদক্ষেপের সুপারিশ করেন। এর মধ্যে চালক, শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, টার্মিনাল ও সংলগ্ন দোকানগুলোতে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বন্ধ, দৃশ্যমান ‘ধূমপান নিষেধ’ সাইনেজ স্থাপন এবং নিয়মিত অডিও ঘোষণার মাধ্যমে ধূমপানের আইনি নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি, বাস মালিকদের ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।