
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় নারীর সুরক্ষা ও অংশগ্রহণের বিষয় থাকলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: পরিবেশ আইনে নারীর সুরক্ষা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, এটি মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে উপকূলীয় ও গ্রামীণ অঞ্চলের নারীরা পানি সংগ্রহ, খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবারের দেখভালের দায়িত্বের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বেশি বহন করেন।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য নারীরা তুলনামূলকভাবে কম দায়ী হলেও ক্ষতির বোঝা তাদেরই বেশি বহন করতে হয়। তাই পরিবেশ আইন ও নীতিমালায় নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, বিকল্প জীবিকা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সভায় বক্তারা পরিবেশ আইনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা বিধান যুক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কবার্তায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং প্রবেশাধিকার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী মনজিল মোরশেদ, পরিবেশকর্মী ফারিহা সুলতানা অমি, সাংবাদিক শাকেরা আরজু শিমু এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীভাঙন, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশ সুরক্ষা ও নারী অধিকার বিষয়কে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।