
দেশের চামড়া শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে বড় আকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রফতানি আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে পারলে চামড়া খাত দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত হতে পারে।
রোববার (১৭ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়ন নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের নবম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারি সংস্থা, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে প্রায় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে বড় পরিসরে উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানো সম্ভব হওয়ায় এই খাতকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে চামড়া খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি এবং এখনো অনেক সমস্যা রয়ে গেছে।
চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক বাজারে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কমপ্লায়েন্স ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত না হলে বিদেশি ক্রেতারা আগ্রহী হন না। এজন্য সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সম্পূর্ণ কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তার মতে, তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগেই হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব, যা অন্যান্য মূলধননির্ভর খাতের তুলনায় বেশি কার্যকর।
সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, ইউরোপীয় ক্রেতারা বাংলাদেশের চামড়া শিল্প নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা ফেরাতে পরিবেশগত মান বজায় রাখা ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টসের পর চামড়া শিল্প দেশের একটি বড় সম্ভাবনাময় খাত। তবে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এই খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।