
জলাবদ্ধতা নিরসন ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুরমা নদী-র তীরবর্তী চাঁদনীঘাট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক বলে আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেট নগরকে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সিলেট মেডিকেল কলেজ-এ শিগগিরই ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করা হবে, যা পর্যায়ক্রমে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে সিলেট পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী হজরত শাহজালাল (রা.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি চাঁদনীঘাটে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সুধী সমাবেশ শেষে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে বাইশা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর সার্কিট হাউজে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে সিলেট স্টেডিয়াম-এ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকাল ৫টায় শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দলীয় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে সিলেট থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছিলেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম সিলেট সফর।