
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সংরক্ষণকে ঘিরে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনায় পশু ক্রয় থেকে শুরু করে মাংস প্রস্তুত, প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপে কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সুস্থ-সবল পশু নির্বাচনের নির্দেশনা:
সরকারি বার্তায় বলা হয়েছে, কোরবানির জন্য এমন পশু নির্বাচন করতে হবে যেগুলো সুস্থ, সতেজ ও স্বাভাবিক আচরণ প্রদর্শন করে। নাকের নিচের অংশে (মাজল) ভেজাভাব ও উজ্জ্বল চেহারা একটি সুস্থ পশুর লক্ষণ।
জবাইয়ের আগে করণীয়:
১. পশু জবাইয়ের অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে থেকে তাকে কেবল পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানি খাওয়াতে হবে; অন্য কোনো খাবার নয়।
২. পশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে, বিশ্রামের অভাবে মাংসের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে।
৩. ক্ষতরোগ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া বা আমাশয়ে আক্রান্ত পশু জবাই থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
৪. জবাইয়ের আগে পশুর শরীর পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক।
৫. সরকারি নির্ধারিত স্থান অথবা নিজ বাড়ির পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত হলে কোরবানি করা যাবে। যত্রতত্র ও রাস্তার ওপর পশু জবাই নিষিদ্ধ।
৬. বর্জ্য অপসারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। ড্রেন, খাল, নদী বা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা যাবে না।
মাংস প্রক্রিয়াকরণের সময় করণীয়:
১. রক্তপাত শেষ হলে খাদ্যনালী আলাদা করে বেঁধে দিতে হবে যাতে পাকস্থলি থেকে ময়লা বের হয়ে মাংস দূষিত না করে।
২. মাংস কাটার সময় সরাসরি মাটি বা আবর্জনার সংস্পর্শ যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি ছাড়ানোর সময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার এবং সরাসরি মাটিতে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. রোগাক্রান্ত অংশ যেমন সিস্ট বা অস্বাভাবিক কলিজা দেখলে তা আলাদা করে মাটিতে পুঁতে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫. ছুরি, দা, চাটাই ইত্যাদি সরঞ্জাম অবশ্যই জীবাণুমুক্ত হতে হবে।
৬. মাংস পরিষ্কার পরিবেশে কাটা হলে তা ধোয়ার প্রয়োজন নেই। ধোয়া একান্ত দরকার হলে আশপাশ জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৭. জবাইয়ের স্থান ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করার নির্দেশ রয়েছে।
মাংস সংরক্ষণের করণীয়:
১. একাধিক পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একটিকে শেষ করে পরবর্তী জবাই করতে বলা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত সময়ের কারণে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ না ঘটে।
২. কাঁচা মাংস চার ঘণ্টার বেশি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না রেখে দ্রুত রান্না বা রেফ্রিজারেশনে রাখতে হবে।
৩. রেফ্রিজারেটরে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এবং দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ১৮ ডিগ্রিতে রাখতে বলা হয়েছে।
৪. কাঁচা মাংসের পাশে রান্না করা বা প্রস্তুত খাবার রাখা যাবে না, বিশেষ করে আইসক্রিম বা ফালুদার মতো আইটেম।
৫. মাংস ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে ফ্রিজে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন প্রয়োজন অনুযায়ী বের করা যায়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা মেনে চললে কোরবানির সময় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। সচেতন নাগরিকদের এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।