ঢাকাবুধবার , ৫ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর! ডায়ালাইসিস ছাড়াই কিডনি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৫ সকাল

Link Copied!

কিডনি রোগ বিশ্বজুড়ে একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রোগটি সাধারণভাবে ধরা পড়ার পর ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর একমাত্র ভরসা থাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস অথবা ব্যয়বহুল ও জটিল কিডনি প্রতিস্থাপন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবার এমন এক নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা, যা ভবিষ্যতে এই নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এর গবেষকরা কিডনি রোগ নিরাময়ে এএভি (AAV) জিন থেরাপি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু করেছেন। এই অত্যাধুনিক পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো শরীরের ভেতরে থাকা ত্রুটিপূর্ণ বা বিকল জিনকে চিহ্নিত করে সেটিকে সুস্থ জিন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা।

কীভাবে কাজ করবে এই আধুনিক জিন থেরাপি

গবেষকদের মতে, এই থেরাপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিনব দিক হলো ভাইরাসকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা। এখানে সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাস—যা মূলত সর্দি-কাশির জন্য দায়ী—তাকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়।

প্রথম ধাপে ভাইরাসটির ক্ষতিকর অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করে সেটিকে নিরাপদ বা নির্বিষ করা হয়। এরপর সেই পরিবর্তিত ভাইরাসের ভেতরে একটি সুস্থ জিন প্রবেশ করানো হয়, যা কিডনির কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এরপর ইনজেকশনের মাধ্যমে এই জিন-বাহী ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করানো হলে এটি রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছে ভাইরাসটি সুস্থ জিনকে নির্দিষ্ট কোষে প্রবেশ করায় এবং ত্রুটিপূর্ণ জিনকে প্রতিস্থাপন করে দেয়। ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি কোষ পুনরায় কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে শুরু করে।

গবেষকদের আশা ও সম্ভাবনা

গবেষকদের মতে, কিডনি রোগের মূল কারণ অনেক ক্ষেত্রেই জিনগত ত্রুটি বা কোষীয় পর্যায়ের সমস্যা। তাই যদি সরাসরি সেই মূল কারণকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা দেওয়া যায়, তবে রোগ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় সম্ভব হতে পারে। এই পদ্ধতি সফল হলে কেবল উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং রোগের মূল উৎস থেকেই চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে রোগীদের দীর্ঘদিনের ডায়ালাইসিস নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনও কমে আসতে পারে।

বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে এই জিন থেরাপি সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। কিডনির গঠন অত্যন্ত জটিল হওয়ায় সঠিক স্থানে নির্ভুলভাবে সুস্থ জিন পৌঁছে দেওয়াই গবেষকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কার্যকারিতা নিয়েও চলছে বিস্তর গবেষণা।

তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই থেরাপি সফলভাবে প্রয়োগযোগ্য হতে পারে। সফল হলে এটি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ কিডনি রোগীর জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু কিডনি চিকিৎসায় নয়, পুরো জিন-ভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

৫ আগস্ট বান্দরবানের ৪ পর্যটনকেন্দ্রে ফ্রি প্রবেশ

তীব্র গরমে ইংল্যান্ডে দুই মাসে প্রায় তিন হাজার মৃত্যু

পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নদীই এশিয়ার খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের চাবিকাঠি: এডিবি

সন্ধ্যার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা

realme Bringing Next C-Series Smartphone to Provide All-Day Power

সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি

Australia provides another $25.25 million in aid for Rohingya

রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আরও ২৫.২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

দেশজুড়ে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ায় পাট চাষে ফিরছে কৃষকের আস্থা

মোবাইল ছেড়ে মাঠে, কৃষি শিখছে টাঙ্গাইলের কলেজ শিক্ষার্থীরা

এক মাস দুই দিনে দেশে এলো ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স