
শত বছরের মধ্যে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭০ জনের বেশি। ধসে পড়া আবাসিক ও অফিস ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনো জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মী, সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম কলম্বিয়ার পেরেইরা ও কালিতে ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এতে বহু ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে ক্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরাও মানবশৃঙ্খল তৈরি করে হাতে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করছেন। উদ্ধারকারীরা নিয়মিত কাজ থামিয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে ডাক দিচ্ছেন এবং কোনো মানুষের সাড়া, টোকা বা শিসের শব্দ পাওয়া যায় কি না, তা শোনার চেষ্টা করছেন।
উদ্ধার অভিযানে থাকা স্বেচ্ছাসেবী আন্দ্রেস ফেলিপে মেহিয়া জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা একজনকে শিস দিতে বলা হলে তিনি শিস দিয়ে সাড়া দেন। পরে উদ্ধারকারীরা একটি ভবন থেকে এক ব্যক্তি ও একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে ওই ব্যক্তির স্ত্রী তখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা ছিলেন।
পেরেইরায় সেনাসদস্য ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে বেঁকে যাওয়া কংক্রিট ও বেরিয়ে থাকা ইস্পাতের মধ্যে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে কালিতে স্থানীয় বাসিন্দারাও দমকলকর্মীদের সঙ্গে কোদাল, শাবল ও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নিয়েছেন।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে। পেরেইরার একটি পার্ক তাঁবু ও গদি দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অনেকে বাড়িঘর ধসে পড়ায়, আবার কেউ পরাঘাতের আশঙ্কায় ঘরে ফিরছেন না।
ভূমিকম্পে কালির হসপিটাল ইউনিভার্সিতারিও দেল ভায়ের একটি অংশও ধসে পড়ে। রোগীদের পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। শিশু, অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা ও নবজাতক সেবার তিনটি তলা ধসে পড়ায় হাসপাতালটির রোগী ধারণক্ষমতা ৫৯০ থেকে কমে ৩৫০-এ নেমে এসেছে।
তবে ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজারো মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে মানুষ দুর্গত এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন। রক্তদানের কেন্দ্রগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা মঙ্গলবার পেরেইরা সফর করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বাড়িভাড়া ভর্তুকি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও কলম্বিয়ার প্রতি সহায়তা ও সমর্থনের বার্তা এসেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে পরাঘাত অব্যাহত থাকলেও উদ্ধার অভিযান থামেনি। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও কোনো কণ্ঠস্বর, টোকা বা শিসের শব্দ পাওয়া যায় কি না—সেই আশায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।