যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহেরযুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানও ১০টি শর্তে সাময়িক এই বিরতিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি এ অঞ্চলের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি এনে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এসব প্রস্তাবে শুধু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব শর্ত মেনে নেওয়ার আভাস দিয়েছেন।
এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। তাদের মতে, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মালয়েশিয়া: প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে হবে। তার মতে, ইরানের প্রস্তাবিত উদ্যোগ ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনের জন্যও একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
নিউজিল্যান্ড: পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা স্বস্তিদায়ক হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও কাজ প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়া: প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হুমকিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জাপান: যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর জাপানের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরে নিক্কেই সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
মিশর: মিশর এই সমঝোতাকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি কূটনীতি ও সংলাপের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেন ম্যারিয়ট দেশটির কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে, তবে স্থায়ী শান্তির জন্য এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সূত্র: ডন নিউজ


