
আজ বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতিবছরের মতো এ বছরও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সবার জন্য আবাসন: টেকসই নগর গঠন ও নিরাপদ বসতি’।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নেওয়া হয়েছে নানামুখী কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেম’-এ আয়োজন করা হয়েছে এক আলোচনা সভার।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এবং জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস।
এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণীতে বলেন, “নিরাপদ ও টেকসই আবাসন কেবল মাথার উপর ছাদ নয়, এটি মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের অন্যতম ভিত্তি।”
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় জিয়া উদ্যান থেকে র্যালি শুরু হয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া ৬ ও ৭ অক্টোবর একই কেন্দ্রে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে রিহ্যাব, রাজউক, স্থাপত্য অধিদপ্তর, নগর পরিকল্পনা অধিদপ্তরসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে। তারা আবাসন, নির্মাণ ও নগর উন্নয়নখাতে পণ্য, সেবা ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে।
দিবসের মূল আলোচনার অংশ হিসেবে আয়োজিত সেমিনারে ‘সবার জন্য আবাসন’ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।
প্রফেসর ড. সুদিপ্তী বিশ্বাস (এমআইএসটি): “রিজাইলেন্ট কমিউনিটি ওয়েসিস: ইনক্লুসিভ পাবলিক ওপেন স্পেসেস ফর আর্থকোয়েক প্রিপেয়ার্ডনেস”
উষাতন মেহেরা খুশি (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়): “অ্যান অ্যাসেসমেন্ট অব ইনফরমাল সেটেলমেন্ট অ্যান্ড লো-কস্ট হাউজিং ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ: ফেইলর্স, সাকসেস, ফ্যাক্টরস অ্যান্ড এ ফ্রেমওয়ার্ক ফর সাসটেইনেবল আরবান ডেভেলপমেন্ট”
হ্যাবিটেট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ–এর কান্ট্রি ডিরেক্টর: “জার্নি টুওয়ার্ড হাউজিং সলিউশন অ্যামিড দ্য আরবান ক্রাইসিস”
রাজধানীর পাশাপাশি বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও দিবসটি পালিত হবে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, র্যালি, স্মরণিকা প্রকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো বিশ্ব বসতি দিবস ঘোষণা করে। এর লক্ষ্য ছিল-সকলের জন্য টেকসই, নিরাপদ ও মানবিক আবাসন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশও প্রতিবছর দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে, যা শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলে পরিকল্পিত নগরায়ণের গুরুত্বকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।