
সারাদেশে আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১০,৪৯৬ জন, আর এসময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামনের দিনে ডেঙ্গু ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশনগুলো।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বছরের একদিনে রেকর্ড ৫৬৮ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনকে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “ডেঙ্গুকে জনস্বাস্থ্যে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে একটি সমন্বিত কেন্দ্র থেকে কাজ করতে হবে। এতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেবে। মৃত্যু কমাতে বিকেন্দ্রীকৃত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ জনগণকে সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।”
সিটি করপোরেশনগুলো আগামী তিন মাসের জন্য কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছে। এতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জেল-জরিমানা বিধানও রাখা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “আমরা একটি আলাদা ল্যাব করছি যাতে ভবিষ্যতে শুধু ডেঙ্গু নয়, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করতে পারি। তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।”
চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১,৪৭৬ জন, মারা গেছেন ১২২ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, মাসভিত্তিক আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হলো-
জানুয়ারি: ১,১৬১ জন আক্রান্ত, ১০ জন মৃত্যু
ফেব্রুয়ারি: ৩৭৪ জন, ৩ জন মৃত্যু
মার্চ: ৩৩৬ জন, তথ্য নেই
এপ্রিল: ৭০১ জন, ৭ জন মৃত্যু
মে: ১,৭৭৩ জন, ৩ জন মৃত্যু
জুন: ৫,৯৫১ জন, ১৯ জন মৃত্যু
জুলাই: ১০,৬৮৪ জন, ৪১ জন মৃত্যু
আগস্ট: ১০,৪৯৬ জন, ৩৯ জন মৃত্যু
এর আগে, ২০২৩ সালে দেশে এক বছরে সবচেয়ে বেশি ৩,২১,১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ২০২৪ সালে ভর্তি হয়েছিল ১,০১,২১১ জন, ২০২২ সালে ৬২,৩৮২ জন, ২০২১ সালে ২৮,৪২৯ জন, ২০২০ সালে ১,৪০৫ জন এবং ২০১৯ সালে ১,০১,৩৫৪ জন।