ঢাকাশনিবার , ২০ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জীবন বীমা ও ব্যাংক

অর্থনীতিতে চাপ, ৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সামনে রেখে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বড় আকারের বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় বাজেট হতে যাচ্ছে।

একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। এসব পণ্য আমদানিতে আগামী চার মাসে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। পাশাপাশি ভর্তুকি বাবদ প্রয়োজন হবে প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এই বিশাল অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় সরকার ৩০০ কোটি ডলার ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমান। মার্চ থেকে জুন সময়ের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এ ঋণ নিতে চায় সরকার। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগ।

চিঠির সঙ্গে পাঠানো অবস্থানপত্রে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঋণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে, জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি নিশ্চিত করতে এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক হবে।

তবে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বা ইআরডির শীর্ষ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে International Monetary Fund এবং World Bank–এর বসন্তকালীন সভায় অংশ নিচ্ছেন। এ সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত ঋণ চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় থাকার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে পড়ে। সে সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে এবং ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

পরবর্তীতে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে চাপ আরও বাড়ে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান Power and Participation Research Centre (পিপিআরসি)-এর তথ্যমতে, গত তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় বাজেট এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এখন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টানা দ্বিতীয় দফায় আবারও কমল স্বর্ণের দাম

vivo Empowers Students Through Nationwide University Photography Contest

বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় ভিভো

realme Tops Smartphone Sales on Daraz and Pickaboo

স্মার্টফোন বিক্রিতে দারাজ ও পিকাবুতে শীর্ষে রিয়েলমি

ফেঞ্চুগঞ্জে বজ্রাঘাতে দুই জেলের মৃত্যু

মায়ের কাজের চাপে পুষ্টিহীনতায় শিশু: গবেষণা

করোনা নিয়ে গোপন তথ্য প্রকাশ করলেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান

নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু অভিযোজনে ইউএন উইমেনের আরও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

দুপুরের মধ্যে ৯ জেলার ওপর ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

অফিসার্স ক্লাবে রূপালী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন

তরুণীদের জন্য টাইপ-২ ডায়াবেটিস এখন মরণফাঁদ