ঢাকাবুধবার , ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার রোগে আক্রান্ত হতে পারে: গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ৫:০৪ অপরাহ্ণ । ৪৩ জন

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে মেটাবলিক লিভার রোগের ঝুঁকি। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক ডিসফাংশন-সম্পর্কিত স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এমএএসএলডি)-এ আক্রান্ত হতে পারেন। বাড়তি স্থূলতা, উচ্চ রক্তে শর্করা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই বৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন, যা গত তিন দশকে প্রায় ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন এতে আক্রান্ত। ১৯৯০ সালে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ কোটি, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটিতে।

গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেস (জিবিডি) গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১৪,৪২৯ জন এমএএসএলডি-এ আক্রান্ত হয়েছেন, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

ঝুঁকির প্রধান কারণ

গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চ রক্তে শর্করা (হাই ব্লাড সুগার) এমএএসএলডি-সম্পর্কিত জটিলতার সবচেয়ে বড় কারণ। এর পরেই রয়েছে উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) এবং ধূমপান। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সঙ্গে এই রোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্পষ্ট।

বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক প্রবণতা

পুরুষদের মধ্যে এই রোগের হার তুলনামূলক বেশি। তবে সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে ৮০ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে। অন্যদিকে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা—পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৫-৩৯ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫৫-৫৯ বছর বয়সে।

অঞ্চলভেদে বৈষম্য

উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে এই রোগের হার তুলনামূলক বেশি হলেও, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাজ্যে ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই রোগের হার ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, যা পশ্চিম ইউরোপে সর্বোচ্চ। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রোগের প্রভাব ও চিকিৎসা

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি- যেমন অকালমৃত্যু বা অসুস্থতার কারণে হারানো বছর- তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। এর অর্থ, উন্নত চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার ফলে রোগীরা আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে অনেক রোগী লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন।

এমএএসএলডি সাধারণত স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যেমন- ওজন কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম।

উপসর্গ ও সচেতনতার ঘাটতি

এই রোগের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে অনেকেই অজান্তেই দীর্ঘদিন এ রোগ বহন করেন। সাধারণত অন্য কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় এটি ধরা পড়ে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লান্তি, অসুস্থ বোধ করা বা ডান পাশের পাঁজরের নিচে পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

গবেষণার তাৎপর্য

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই) পরিচালিত এই গবেষণাটি দ্য ল্যানসেট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, তরুণদের মধ্যেও দ্রুত এই রোগ ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগজনক। তাই এখনই এটিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে কার্যকর নীতি, সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।