
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বরফ ধস ও ভয়াবহ বন্যার ঘটনা শুধু স্থানীয় দুর্যোগ নয়, এটি পুরো পরিবেশ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। হিমালয় পর্বতমালার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশসহ আটটি দেশের জন্যও এ ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে অঞ্চলটির পরিবেশগত ঝুঁকি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
হিমালয়ের উঁচু এলাকায় বরফ ধস বা পাহাড়ি ঢল শুরু হলে নদীর পানি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুতগতিতে সমতলের দিকে নেমে আসে। এর প্রভাব উজান থেকে ভাটির দেশগুলোতেও পড়তে পারে।
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার শেষ প্রান্তে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা যেকোনো আকস্মিক ঢলের প্রভাব সরাসরি দেশের ওপর পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনে আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন এবং অসময়ে পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন আর প্রতিটি দেশের নিজস্ব সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন ও পাকিস্তানসহ এই অঞ্চলের আটটি দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়ার আগাম তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তসীমান্ত নদীগুলোর পানির প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি নিয়মিত নজরদারির জন্য যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা সঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।