
দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার দাবি জানিয়েছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরাম (এমটিএফ)। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে তিন শিফটে টেস্ট সুবিধা চালু হলে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের দ্রুত রোগনির্ণয় ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে সংগঠনটির দাবি।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীতে সরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) মিলনায়তনে এমটিএফ আয়োজিত ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এমটিএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সোহেল রানার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী মিজানুর রহমান খান, জুলাই যোদ্ধা রেজাউল করিম শাকিল, ডা. শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বৈষম্যবিরোধী জাতীয় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মিয়া মো. গোলাম মাওলা, এমটিএফ মহাসচিব রিপন সিকদার প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমটিএফ দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মু. সোহেল হাওলাদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ভুল রোগনির্ণয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানরা। সরকারিভাবে পদ সৃষ্টি করে নিয়মিত নিয়োগ দিতে পারলে মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী বাড়বে। এজন্য অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের মতো ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে দ্রুত উন্নীতকরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রধান বক্তা ডা. এসএম খালিদুজ্জামান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুসারে মেডিকেল জনবলের টিমওয়ার্ক নিশ্চিত হলে সেবা গ্রহীতারা আরও সহজে সেবা পাবেন।
সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে তিন শিফটে (মর্নিং, ইভনিং ও নাইট) সেবা দেওয়া হলেও হাসপাতালের বহির্বিভাগ এক শিফট চালু থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীদের সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। বাকি দুই শিফটে ভবন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সামগ্রী অব্যবহৃত থাকে। এক শিফটে সেবা সীমিত থাকার কারণে অনেক রিএজেন্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া ইভনিং ও নাইট শিফটে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না থাকায় অধিকাংশ রোগীকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রান্তিক পর্যায়সহ সব স্তরে তিন শিফটে সেবা চালু হলে একই ভবন ও মেশিনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, রোগীরা সুবিধামতো সময়ে সেবা নিতে পারবেন, প্রাথমিক পর্যায়েই রোগনির্ণয় সম্ভব হবে—ফলে খরচ ও ঝুঁকি কমবে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প জনবল থাকার কারণে পরীক্ষাসমূহের কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা সম্ভব হয় না। এতে বিভিন্ন ল্যাবের রিপোর্টে পার্থক্য দেখা যায়। খরচ কমিয়ে সেবা বাড়িয়ে রাজস্ব আয়ের কার্যকর উপায় হতে পারে রোগনির্ণয় বিভাগের সেবার সময় বৃদ্ধি। কিন্তু দক্ষ জনবল সরকারি খাতে কাজ না পেয়ে বেসরকারি খাতে চলে যাচ্ছে। তিন শিফট চালু হলে দক্ষ রোগনির্ণয় জনবল সরকারি খাতে কাজে নিয়োজিত থাকবে এবং ব্যয়বহুল বেসরকারি সেবার ওপর নির্ভরতা কমবে।
তারা আরও বলেন, সরকারি সেবাগ্রহীতা ও রাজস্ব আয় বাড়বে, ভর্তুকি কমবে। সঠিক রোগনির্ণয়ে প্যাথলজিস্ট, ডিপ্লোমা ও বিএসসি মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ চিকিৎসা সহায়ক জনবলের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মেডিকেল টেকনোলজি কাউন্সিল গঠন করে জব রেজিস্ট্রেশন এবং একটি পরিদপ্তর গঠন করে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।