শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বর, সর্দি–কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই অসংখ্য শিশু হাসপাতালে আসছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এ চিত্র সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে জাতীয় শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৬২ হাজার শিশু। এ সময় প্রায় সাত হাজার শিশুকে ভর্তি করা হলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেককেই কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই এই হাসপাতালে মারা গেছে ১৩৪ নবজাতক।
আজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা যায়, সাত মাস বয়সী শিশু সোহাকে কোলে নিয়ে উদ্বিগ্ন অবস্থায় অপেক্ষা করছেন তার মা। কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে শিশুটি। এমন দৃশ্য হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগেই দেখা গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, শীত মৌসুমে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। নিউমোনিয়া, অ্যাজমা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশুরা হাসপাতালে আসছে।
হাসপাতালের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৪৭ জন, অ্যাজমায় ৩১ জন, সাধারণ সর্দি–জ্বরে ২০৯ জন এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ২৮৭ শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে। একই সময়ে ছয়জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুন নাহার বলেন, “শীতকালে ঠান্ডা–কাশিজনিত সমস্যা নিয়ে শিশুরা বেশি আসে। অনেকের বমি হচ্ছে। এই সময় রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।”
হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. লুনা পারভীন বলেন, “নবজাতকদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। হাত, পা ও কান ঢেকে রাখতে হবে এবং ঘরে আলো–বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বড় শিশুদের পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “এ সময় অনেক শিশুর ঘন ঘন ঠান্ডা লাগছে, শ্বাসকষ্ট বাড়ছে এবং সহজে সুস্থ হচ্ছে না। ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।”
বিশেষজ্ঞরা শীতকালজুড়ে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


