
দেশব্যাপী নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নূরজাহান বেগম, মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সায়েদুর রহমান।
মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব
এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘মাতৃদুগ্ধকে অগ্রাধিকার দিন, টেকসই সহায়ক ব্যবস্থা করে গড়ে তুলুন’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
শিশুর জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ালে মৃত্যুঝুঁকি ৩১% কমে যায়।
ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ (এক ফোঁটা পানিও নয়) খাওয়ালে শিশুমৃত্যুর হার আরও ১৩% কমে।
জন্মের পর মায়ের প্রথম দুধ ‘শালদুধ’ শিশুর জন্য প্রথম টিকার মতো কাজ করে; এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশে ভূমিকা রাখে।
বিকল্প খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌটায় সংরক্ষিত বা গুঁড়ো দুধ শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর—
এতে ডায়রিয়ার ঝুঁকি ১০ গুণ বেড়ে যায়।
নিউমোনিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৫ গুণ বেশি হয়।
পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, শৈশবকালীন ক্যানসার, এবং পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও বাড়ে।
মায়ের জন্যও উপকারী
শুধু শিশুই নয়, মায়ের জন্যও মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর।
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে।
প্রসব-পরবর্তী সময়ে শরীর দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
মায়ের মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।
বিশ্বজুড়ে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য— শিশুদের সুস্থভাবে বড় করে তোলা, মায়েদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা, এবং মাতৃদুগ্ধের বিকল্প বিপজ্জনক পণ্য থেকে মানুষকে দূরে রাখা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়— “মাতৃদুগ্ধ শুধু একটি খাবার নয়; এটি শিশুর জীবনের ভিত্তি, রোগ প্রতিরোধের প্রধান স্তম্ভ এবং এক ধরনের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা।”