
‘আমরা কেমন ঢাকা চাই’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু, পরিচ্ছন্নতা, যানজট, হকার সমস্যা, ফুটপাত দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক নিরাপত্তাসহ নগর জীবনের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে শিশুদের মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শিশু আনন্দমেলা’য় তিনি শিশুদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় শিশুদের প্রশ্ন ও মতামতের মধ্য দিয়ে তাদের প্রত্যাশার একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ ঢাকার চিত্র উঠে আসে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশুদের নিরাপদ চলাচল, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাসহ রাজধানীর সামগ্রিক উন্নয়নে ডিএসসিসির বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রশাসক।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের ঢাকা শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ, সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। শিশুদের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্ক, যানজটমুক্ত চলাচল এবং নিরাপদ নাগরিক জীবনের দাবি জানায়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফুটপাতে নিরাপত্তা নিয়ে শিশুদের প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শিশুদের জন্য জেব্রা ক্রসিং তৈরি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন সার্বিক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
শিশুদের শারীরিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে অথবা যৌথভাবে দুটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে খেলার মাঠ তৈরির চেষ্টা চলছে। বিদ্যমান মাঠগুলোর উন্নয়ন, টার্ফ স্থাপন এবং পরিত্যক্ত জায়গাগুলোকে খেলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শহীদ জিয়া শিশু পার্কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খেলার সরঞ্জাম এলেই পার্কটি চালু করা হবে। পাশাপাশি ওসমানী উদ্যান, মতিউর পার্কসহ বিভিন্ন স্থান নতুন করে সাজানোর কাজও চলছে।
ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি শুক্র ও শনিবার দুটি বাসে বিনামূল্যে ঐতিহ্যবাহী স্থান ভ্রমণের পরিকল্পনার কথাও জানান আবদুস সালাম। এর আওতায় শিশুদের শহীদ মিনার, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা ও কার্জন হলসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হবে। এ কার্যক্রমে শিশুদের দুপুরের খাবারও সরবরাহ করা হবে।
শিশুদের মানসিক বিকাশে নাট্য উৎসব আয়োজন এবং বন্ধ থাকা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মেধা বিকাশ ও প্রণোদনার বিষয়ে তিনি বলেন, আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীর পুরো শিক্ষাজীবনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদেরও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার কোচিং বন্ধ রাখার বিষয়ে সেমিনার আয়োজন করে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
জলাবদ্ধতা নিরসন ও সবুজায়ন প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নালায় পলিথিন ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ডিএসসিসি ইতোমধ্যে ৩৪টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছে। অপরিশোধিত পানি সরাসরি নদীতে না ফেলে পরিশোধনের মাধ্যমে নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগর পরিকল্পনায় শিশুদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সবুজ পরিবেশ, খেলাধুলা এবং মুক্তচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কাজ করে যাবে।