
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রোবোটিক পুনর্বাসন (রিহ্যাবিলিটেশন) চিকিৎসা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, রোগীকেন্দ্রিক, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও টেকসই করতে আধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর বলেন, স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি, পারকিনসন রোগ, সেরিব্রাল পালসি এবং অন্যান্য স্নায়বিক ও মাংসপেশিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও জীবনমান উন্নয়নে রোবোটিক পুনর্বাসন চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর।
তিনি জানান, প্রশিক্ষণে চীন থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টদের আধুনিক রোবোটিক পুনর্বাসন প্রযুক্তির তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। পাশাপাশি চীনা বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের রোবোটিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা, ক্যালিব্রেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের পুনর্বাসন চিকিৎসার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।