ঢাকাশনিবার , ১৪ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

মেঘনার ভাঙন রোধে চাঁদপুরে চলছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প!

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৪, ২০২৬ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ । ১২ জন

মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধ এবং চাঁদপুর শহর সংরক্ষণের লক্ষ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প শুরু হয়েছে। তবে অর্থ সংকট ও দীর্ঘপ্রক্রিয়ার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

২০২৪ সালের শুরুতে শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয় ৮১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ৩.২২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রক্ষা বাঁধের কাজ বর্তমানে চলমান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে।

শহর সংরক্ষণ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন, প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি যেন না ঘটে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।

চাঁদপুরের পুরান বাজার হরিসভা এলাকার ৬৫ বছর বয়সী সবিতা রানী বলেন, “আমি নিজে এই এলাকায় তিনবার মেঘনার ভাঙন দেখেছি। সবকিছু হারিয়ে রাস্তার পাশে ছিন্নমূল হিসেবে বসবাস করছি। বাঁধ যেন সঠিকভাবে নির্মাণ করা হয়।”

অন্য বাসিন্দা মর্জিনা বেগম জানিয়েছেন, “বর্ষা শুরু হলে ভাঙনের ভয় থাকে। কিছুটা সংস্কার হলেও রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না। এবার বাঁধ সম্পন্ন হলে মানুষের মাথাগোজার জায়গা হবে।”

প্রকল্পের কাজ ১৯টি প্যাকেজে চলমান। জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পর বর্তমানে ব্লক ডাম্পিং চলছে। প্রথমবারের মতো বিদেশ থেকে আনা অটোমেটিক মেশিনে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে, যা কাজের গুণগত মান বাড়াবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসকে এমদাদুল হক আল মামুনের সহকারী প্রকল্প পরিচালক সুদীপ্ত গুন জানান, “সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি এবার মেশিনের মাধ্যমে নিখুঁত ব্লক তৈরি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে এবং প্রকৌশলীরা তত্ত্বাবধান করছেন।”

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা হবে। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শুরু হয়েছে, জিও ব্যাগ ডাম্পিং শেষে ব্লক ডাম্পিং চলছে, এবং ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ হবে।”

প্রকল্প এলাকার ছিন্নমূল পরিবারকে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।