
মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেশে মাছের উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। এই অবস্থান আরও এগিয়ে নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনামাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্যবিজ্ঞান ভবনের প্রফেসর মোহাম্মদ শফি অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফিসারিজ সেক্টরের পরিধি অনেক বড় এবং এ খাতে কর্মক্ষেত্রও বিস্তৃত। একসময় মানুষ এ খাতকে ততটা গুরুত্ব দিত না। তবে দিন যত যাচ্ছে, মানুষ এর গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাত আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং মৎস্যসম্পদ দিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে মানুষকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এর ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাছের উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
দেশের নদ-নদীর নাব্যতা ও দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেছে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করা এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণে সক্ষম হলে তা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে।
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে মৎস্য খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে কর্মক্ষেত্র ও জীবন গঠনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশও বর্তমানে মৎস্য খাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে জ্ঞানচর্চা বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে মৎস্য শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদা হক। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওয়ায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।