ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিল্কিওয়ের গভীর থেকে আসছে নিয়মিত রহস্যময় সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ৪:২৬ অপরাহ্ণ । ১৭৫ জন

আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে ‘এএসকেএপি জে১৮৩২০৯১১’ নামের এক অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তু থেকে নিয়মিত শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গ ও এক্স-রে সংকেত শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এসব সংকেতের প্রকৃত উৎস ও কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, বস্তুটি প্রতি ৪৪ মিনিট পরপর তীব্র রেডিও তরঙ্গের পাশাপাশি এক্স-রে বিকিরণ করছে—যা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একেবারেই বিরল ঘটনা। নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি টেলিস্কোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে পাথফাইন্ডার (এএসকেএপি) রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই অস্বাভাবিক সংকেত ধরা পড়ে।

গবেষকদের মতে, বস্তুটি মিল্কিওয়ে ছায়াপথের গভীর অঞ্চলে অবস্থিত। ওই এলাকায় নক্ষত্র, গ্যাস ও মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ থাকলেও ‘এএসকেএপি জে১৮৩২০৯১১’-এর শক্তিশালী ও ছন্দময় ঝলকানি অন্য সব কিছুর থেকে একে আলাদা করে তুলেছে। এটি ‘লং-পিরিয়ড রেডিও ট্রানজিয়েন্ট’ নামের একটি অত্যন্ত বিরল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

সাধারণ পালসার নক্ষত্র যেখানে প্রতি সেকেন্ডে একাধিকবার ঘূর্ণনের মাধ্যমে সংকেত পাঠায়, সেখানে এই বস্তুটি অনেক ধীরগতিতে—প্রতি ৪৪ মিনিটে—শক্তি নির্গত করছে। বিশেষ করে একই সময়ে রেডিও তরঙ্গ ও এক্স-রে সংকেতের ওঠানামা বিজ্ঞানীদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির তথ্যমতে, এই প্রথম কোনো লং-পিরিয়ড রেডিও ট্রানজিয়েন্ট থেকে একসঙ্গে রেডিও ও এক্স-রে সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় সংকেতের পেছনে একই ধরনের ভৌত প্রক্রিয়া কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া কী—তা এখনো অজানা।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি রিসার্চ জানিয়েছে, বস্তুটি কোনো অস্বাভাবিক নিউট্রন স্টার, শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রযুক্ত ম্যাগনেটার বা সম্পূর্ণ নতুন কোনো মহাজাগতিক শ্রেণির বস্তু হতে পারে। আপাতত এটি মহাকাশের এক কোণ থেকে নিয়মিত সংকেত পাঠিয়ে চলেছে, যা বিদ্যমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও মডেলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া