
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৯৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৫৯২ জন। এছাড়া ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৩০৯ জন। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ১০ দিন পরও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে এলেও স্বজনদের খোঁজে এখনো দুর্গত এলাকায় অপেক্ষা করছেন অনেক পরিবার।
এদিকে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো সরকারের বিরুদ্ধে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপনের অভিযোগ তুলেছেন। আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আহত মানুষের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৪৫ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রায় ৩০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা কাজ করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, চিলি, এল সালভাদর, পেরুসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৩ হাজার ২৮১ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন।
উদ্ধারকারীরা শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্র, ড্রোন, বিশেষ ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের সন্ধান করছেন। কোথাও কোথাও দেয়াল ভেঙে ও সুড়ঙ্গ তৈরি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে লা গুয়াইরা উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগেই হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।