
রাতভর বৃষ্টির পর ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। সঙ্গে হিমেল বাতাস। সব মিলিয়ে আশ্বিনের শেষপ্রান্তে এসে দেশের সর্বউত্তরের এই জনপদে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে সাড়ে ৩ ডিগ্রি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও বৃষ্টির পর সোমবার সকালে তা নেমে আসে ২০ ডিগ্রির ঘরে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের শেষ ভাগ ও ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা গেছে। সকালেও কুয়াশার সঙ্গে মৃদু ঠান্ডা বাতাস থাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।
প্রতিবছর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি আগে শুরু হয়। ভৌগোলিক অবস্থান এর অন্যতম কারণ। হিমালয়ের পাদদেশের কাছাকাছি হওয়ায় শীত মৌসুমে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস সহজেই এ অঞ্চলে প্রবেশ করে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে ঠান্ডা বাতাসের প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। এর সঙ্গে কুয়াশা যুক্ত হলে শীতের অনুভূতিও বাড়ে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে তাকালেই কুয়াশায় চারপাশ ধোঁয়াটে দেখা যাচ্ছে। অনেকে কুয়াশাময় সকালের আবহ উপভোগ করতে বাইরে বের হচ্ছেন। কেউ হাঁটছেন, আবার কেউ কুয়াশায় ভেজা সকালের দৃশ্য উপভোগ করছেন। শিশু ও বয়স্কদের কেউ কেউ এরই মধ্যে হালকা গরম কাপড় ব্যবহার শুরু করেছেন।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এর মধ্যে গতরাতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এটি মৌসুমি পরিবর্তনের লক্ষণ। এখন থেকে প্রতিদিন তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরও কমতে পারে।