
Young man lighting a cigarette on the street,front view
একটি ছোট শহরে, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার রাস্তার ধারে বসে থাকা ৩৫ বছরের রিয়ান প্রতিদিন সকালে সিগারেটের ধোঁয়ায় দিন শুরু করে। ইন্দোনেশিয়ায় পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার ৭১.৪%, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু। রিয়ানের মতো লাখ লাখ পুরুষ এই স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে প্রতিদিন মুখোমুখি হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারেও ধূমপানের হার ৬৮.৫%, যেখানে শারীরিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং সামাজিক স্বীকৃতি একসাথে একটি জটিল চিত্র উপস্থাপন করে।
বাংলাদেশে পুরুষদের ৫২.২% ধূমপায়ী, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উচ্চ হার হিসেবে ধরা হয়। শহর ও গ্রাম উভয়েই, পুরুষরা সামাজিকভাবে সিগারেট বা অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের সঙ্গে পরিচিত। চীনেও ৪৯.৪% পুরুষ ধূমপায়ী, যেখানে ব্যাপক জনসংখ্যা এবং শিল্পায়নের চাপ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
মিশ্রতামূলক প্রভাব দেখা যায় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে। মিশর, যেখানে ৪৮.১% পুরুষ ধূমপায়ী, এবং তুরস্ক, ৪২.১%, দেখায় যে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ধূমপানের স্বীকৃতিকে প্রভাবিত করে। মালয়েশিয়া ৪৩.৮%, শ্রীলঙ্কা ৪১.৪%, ভারত এবং থাইল্যান্ড উভয়ই ৪১.৩%, যেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের সঙ্গে ধূমপান ছড়িয়ে পড়েছে।
রাশিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশেও, যেমন সার্বিয়া ৪০.৫%, ইউক্রেন ৪০%, কাজাখস্তান ৩৯.৬%, ফিলিপাইন ৩৯.৩%, ক্রোয়েশিয়া ৩৭.৬% – এভাবে ধূমপানের হার প্রায়শই উচ্চ। এই দেশগুলোতে পুরুষদের মধ্যে সিগারেট, পাইপ বা সিগারার প্রচলন অনেক দশক ধরে রয়েছে। গ্রীস ৩৬.৫%, কম্বোডিয়া ৩৬.১%, রোমানিয়া ৩৫.৯% এবং হাঙ্গেরি ৩৫.৮%, দক্ষিণ কোরিয়া ৩৫.৭% – এভাবে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী দেশগুলোতে ধূমপানের প্রভাব স্পষ্ট।
মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে ধূমপানের হার তুলনামূলকভাবে কম। ইরাক ৩৫.১%, চেক প্রজাতন্ত্র ৩৫.০%, ফ্রান্স ৩৪.৯%, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৪% – এভাবে ধূমপান শুধুমাত্র সামাজিক আচরণ নয়, বরং সরকারি নিয়ম ও সচেতনতার ওপরও নির্ভর করে। পাকিস্তান ৩৩%, চিলি ৩১.৬%, পর্তুগাল ৩০.৫%, জাপান ৩০.১% – এভাবে এশিয়ার এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে ধূমপান সামাজিক রীতির অংশ।
উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে ধূমপানের হার অনেক কম। সুইডেন ২৯.৮%, আর্জেন্টিনা ২৯.৪%, ইসরায়েল ২৮.৯%, স্পেন ২৮.৬%, যুক্তরাষ্ট্র ২৮.৪%, সুইজারল্যান্ড ২৮.১%, সিঙ্গাপুর ২৮%, পোল্যান্ড ২৭.৯%, অস্ট্রিয়া ২৭.৭% – এই দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক প্রচার এবং সরকারি নীতি ধূমপানের হার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফিনল্যান্ড ২৬.৯%, ইতালি ২৬.৬%, সৌদি আরব ২৬.৫%, বেলজিয়াম ২৫.৮%, নেদারল্যান্ড এবং জার্মানি উভয়ই ২৪.৪%, ইরান ২৪.১%, আয়ারল্যান্ড ২২.৫% – এই দেশগুলোর উদাহরণ দেখায় যে শিক্ষার স্তর, স্বাস্থ্যনীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ ধূমপানের হারকে প্রভাবিত করে।
মেক্সিকো ১৯.৯%, ডেনমার্ক ১৭.৮%, যুক্তরাজ্য ১৭.৩%, নরওয়ে ১৭%, ব্রাজিল ১৬.২%, অস্ট্রেলিয়া ১৫.৬%, কানাডা ১৫.৩% – এখানে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলোতে ধূমপান কমে আসছে। এছাড়াও নাইজার ১৩.৭%, আইসল্যান্ড ১১.৯%, ইথিওপিয়া ৮.৮% এবং নাইজেরিয়া ৬.৯% – এই দেশগুলোতে ধূমপান কম থাকলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
পুরুষদের ধূমপানের হার কেবল স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়; এটি দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিফলন। যেখানে ধূমপান উচ্চ, সেখানে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি। উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ ধূমপান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের ধূমপান মানচিত্র দেখায় যে, এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ এবং আফ্রিকার কিছু দেশ ধূমপান তুলনামূলকভাবে কম। এই তথ্য কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যনীতি, সামাজিক আচরণ এবং জীবনযাত্রার মানের আয়নাও।
এই তালিকায় প্রতিটি দেশ শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, বরং পুরুষদের জীবনধারার, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং সামাজিক পরিবেশের প্রতিফলন। ইন্দোনেশিয়া বা মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি, আর নরওয়ে বা নাইজেরিয়ার মতো দেশে কম। ধূমপান কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যনীতি এবং সামাজিক মানসিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য গবেষণায় দেখা যায়, ধূমপানের হার কমাতে স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক প্রচার, করনীতি এবং সিগারেটের দাম বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ কার্যকর। যেখানে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে পুরুষদের ধূমপানের হার কমে এসেছে।
এই তথ্য বিশ্বকে একটি শিক্ষা দেয় – ধূমপান শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোরও অংশ। দেশে দেশে, মানুষ এবং সরকার একসাথে কাজ না করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। প্রতিটি শতাংশ, প্রতিটি দেশের তথ্য, নারীদের এবং পুরুষদের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সচেতনতার প্রতিফলন।