
বিদ্যুতের বিল কমাতে অনেকেই নানা কৌশল মেনে চলেন। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান ও বাতি বন্ধ করা, এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কিংবা চার্জার খুলে রাখার মতো অভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম। তবে ফ্যান বা বাতি বারবার চালু ও বন্ধ করলে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়-এমন ধারণাও প্রচলিত। বাস্তবে এসব ধারণার সবগুলো সঠিক নয়। কিছু সাধারণ অভ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হলেও কোনটি কতটা কার্যকর, তা জানা জরুরি।
অনেকের ধারণা, ফ্যান বা বাতি বারবার বন্ধ ও চালু করলে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে স্বাভাবিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ ধারণা ঠিক নয়। ফ্যান বা বাতি বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎ খরচ হয় না। সুইচ চালু করার সময় সামান্য বিদ্যুৎ খরচ হলেও তা এতটাই কম যে এই কারণে যন্ত্র চালু রেখে দেওয়া সাশ্রয়ী নয়। বরং প্রয়োজন না থাকলে ফ্যান ও বাতি বন্ধ রাখাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায়।
ফ্যানের গতি বাড়ালে বিদ্যুৎ খরচও বাড়তে পারে। তবে এর পরিমাণ নির্ভর করে ফ্যানের মোটরের প্রযুক্তি ও রেগুলেটরের ধরনের ওপর। পুরোনো ধরনের রেগুলেটরে ফ্যানের গতি কমালেও কিছু বিদ্যুৎ তাপ হিসেবে নষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ও উন্নত প্রযুক্তির ফ্যানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন আলাদা হতে পারে। তাই শুধু গতি কমানোর বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান চালানো এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।
মোবাইল চার্জার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র প্লাগে লাগানো থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। একে স্ট্যান্ডবাই বা নিষ্ক্রিয় অবস্থার বিদ্যুৎ ব্যবহার বলা হয়। আধুনিক ও ভালো মানের চার্জারে এ খরচ সাধারণত খুব কম। তবে একাধিক যন্ত্র দীর্ঘ সময় স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থাকলে সম্মিলিতভাবে বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করা যন্ত্রের সুইচ বন্ধ রাখা ভালো।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান ও বাতি বন্ধ রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী এসির তাপমাত্রা নির্ধারণ, সাধারণ বাতির বদলে এলইডি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্র কেনার মাধ্যমে খরচ কমানো যায়।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করা ইলেকট্রনিক যন্ত্র স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় না রেখে পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা যেতে পারে। ছোট ছোট এসব অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর পাশাপাশি মাসিক বিলও কমানো সম্ভব।