ঢাকাবুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

বাজাজ ডিসকভার ১২৫: ফিরে এল ২০২৫-এ নতুন রূপে, মাইলেজে চমক

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫১ বিকাল

Link Copied!

বাংলাদেশ এবং ভারতের শহর ও গ্রামীণ সড়কে কমিউটিং বাইকের বাজারে ডিসকভার নামটা একসময় ছিলো আস্থার প্রতীক। সেই জায়গা থেকেই বাজাজ আবারও ২০২৫ সালে এই মডেল ফিরিয়ে এনেছে, সঙ্গে দিয়েছে আকর্ষণীয় মাইলেজ, আধুনিক ডিজাইন আর সাশ্রয়ী দামের প্রতিশ্রুতি।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স: প্রতিদিনের জন্য নির্ভরযোগ্য সঙ্গী
নতুন ডিসকভার ১২৫-এ ব্যবহার করা হয়েছে ১২৪.৪৫ সিসি এয়ার-কুলড ৪-স্ট্রোক DTS-i ইঞ্জিন। শক্তি উৎপাদনে এটি ৭৫০০ আরপিএম-এ ১১.৮ পিএস এবং ৫০০০ আরপিএম-এ ১১ এনএম টর্ক দিতে সক্ষম। পাঁচ গিয়ারযুক্ত ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের মাধ্যমে গিয়ার বদল সহজ ও দ্রুত। ফলে শহরের ভিড়ভাট্টায় আরামদায়ক ক্রুজিংয়ের পাশাপাশি মাঝারি দৈর্ঘ্যের হাইওয়েতেও মসৃণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

ডিসকভার সবসময়ই এমন এক বাইক ছিলো, যেটা গতির জন্য নয় বরং ব্যবহারিক নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত। ২০২৫-এর সংস্করণেও একই দর্শন বজায় রেখেছে বাজাজ। ইঞ্জিনের টিউনিং এমনভাবে করা হয়েছে যাতে শহরের ট্রাফিক, অফিসগামী যাত্রা কিংবা প্রতিদিনের বাজার–সফরে বাইকটি মসৃণ অভিজ্ঞতা দেয়।

মাইলেজ ও দক্ষতা: সাশ্রয়ী রাইডারদের স্বপ্ন
বাজাজ ডিসকভারের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি এসেছে মাইলেজ থেকে। ২০২৫-এর সংস্করণেও সেটিই প্রধান আকর্ষণ। বাইকটি প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ৬৭ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। ১০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কে একবার ফুয়েল ভরলেই প্রায় ৬৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা সম্ভব। যারা নিয়মিত দীর্ঘ পথ যাতায়াত করেন কিংবা জ্বালানির খরচ নিয়ে সচেতন, তাদের জন্য এটি বড় সুবিধা।
ভারত ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে জ্বালানি খরচ একটি বড় বিবেচ্য বিষয়, সেখানে ডিসকভার ১২৫-এর এই মাইলেজ নিঃসন্দেহে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা এনে দেবে।

নকশা ও আরাম: পুরনো নাম, নতুন চেহারা
২০২৫ সালের মডেলটির ডিজাইন একেবারে নতুন করে সাজানো হয়েছে। স্পোর্টি বডি, ট্যাঙ্কে শার্প এক্সটেনশন এবং LED DRL যুক্ত হেডলাইট এটিকে আধুনিক লুক দিয়েছে। ৮০৫ মিমি সিট হাইট এবং ১২২ কেজি কার্ব ওয়েটের কারণে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এখানে আরও একটি বিশেষ দিক হলো এর সেমি-ডাবল ক্র্যাডল চ্যাসিস, যা বাইককে দেয় স্থিতিশীলতা। শহরের উঁচু–নিচু রাস্তা কিংবা গ্রামীণ কাঁচা পথ—দুই জায়গাতেই টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট ফর্কস ও নাইট্রক্স রিয়ার সাসপেনশনের কারণে রাইডারকে আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়।

ডিজাইনের দিক থেকে পুরনো ডিসকভারকে যারা চিনতেন, তারা এখানে একেবারেই ভিন্ন কিছু দেখতে পাবেন। নতুন লুক, নতুন রঙ আর আধুনিক ছোঁয়া—সব মিলিয়ে বাইকটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং রাইডারের স্টাইলের অংশ হয়ে উঠবে।

প্রযুক্তি ও ফিচারস: কমিউটার বাইকে আধুনিক সুবিধা
প্রযুক্তিগতভাবে ডিসকভার ১২৫ এবার আরও এগিয়েছে। ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে পাওয়া যাবে স্পিডোমিটার, গিয়ার ইন্ডিকেটর, ট্রিপ মিটার এবং লো ব্যাটারি ওয়ার্নিং। এছাড়া ইঞ্জিন কিল সুইচ, পাস লাইট এবং LED DRL সহ হ্যালোজেন হেডল্যাম্প থাকছে।

স্টার্ট অপশনে থাকছে ইলেকট্রিক ও কিক—দুই ধরনেরই সুবিধা। ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই রাইডার নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।

ব্রেকিং ও নিরাপত্তা: নিয়ন্ত্রণের বাড়তি ভরসা
বাইকটির সামনে ও পেছনে ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক যুক্ত করা হয়েছে। তবে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেকের বিকল্পও রাখা হয়েছে। অ্যালয় হুইল ও টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে যাতে গ্রিপ বাড়ে এবং হঠাৎ টায়ার পাংচার হলেও দ্রুত ডিফ্লেট না হয়।

নিরাপত্তার দিক থেকে এই আপগ্রেডগুলো প্রতিদিনের শহুরে রাস্তায় যেমন ভরসা দেবে, তেমনি হাইওয়ে বা গ্রামীণ সড়কেও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে রাইডারকে।

দাম: সাশ্রয়ী বাজেটে আধুনিক বাইক
বাজাজ সবসময় মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে দাম নির্ধারণ করে থাকে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত দামের তালিকা অনুযায়ী:
১. ডিসকভার ১২৫ ড্রাম ব্রেক ভ্যারিয়েন্ট – ₹৭০,০০০ (এক্স-শোরুম, ভারত)
২. ডিসকভার ১২৫ ফ্রন্ট ডিস্ক ভ্যারিয়েন্ট – ₹৭৪,৫০০ (এক্স-শোরুম, ভারত)
বাংলাদেশি বাজারে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার কারণে দাম কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে প্রতিযোগিতামূলক থাকবে বলেই আশা করা যায়।

প্রতিযোগিতা: ১২৫ সিসি সেগমেন্টে অবস্থান
ভারত ও বাংলাদেশের ১২৫ সিসি কমিউটার বাজারে হিরো গ্ল্যামার, হোন্ডা শাইন, টিভিএস রাইডার প্রমুখ বাইক রয়েছে। এসব বাইকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে বাজাজ ডিসকভার ১২৫-এর শক্তি হলো এর পরীক্ষিত পারফরম্যান্স, দারুণ মাইলেজ এবং সাশ্রয়ী দাম।

হোন্ডা শাইন যেখানে মসৃণ ইঞ্জিনের জন্য পরিচিত, টিভিএস রাইডার আবার আকর্ষণীয় ডিজাইন ও প্রযুক্তির জন্য জনপ্রিয়। সেখানে ডিসকভার ১২৫-এর অবস্থান দাঁড়াচ্ছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ হিসেবে—যেখানে মাইলেজ, দাম, ডিজাইন আর প্রযুক্তি একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।

বাজার প্রত্যাশা ও ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া
২০২৫ সালে বাইকটি প্রকাশের পর থেকেই বাজারে সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন অফিস বা কলেজে যাতায়াত করেন, তারা বাইকটির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেক পুরনো ডিসকভার ব্যবহারকারীও বলছেন, এই মডেল তাদের মধ্যে নতুন করে আস্থা জাগিয়েছে।

অন্যদিকে বাজাজ ডিলাররা মনে করছেন, ১২৫ সিসি সেগমেন্টে বাইকটির বিক্রি দ্রুতই বৃদ্ধি পাবে। কারণ বর্তমানে গ্রাহকরা একদিকে জ্বালানি সাশ্রয় চান, অন্যদিকে প্রযুক্তি ও স্টাইলেও আপস করতে চান না। ডিসকভার ১২৫ এই দুই চাহিদাকেই পূরণ করছে।

বাজাজ ডিসকভার ১২৫-এর প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে ২০২৫ সালের দুই চাকার বাজারে একটি বড় ঘটনা। পরিচিত ব্র্যান্ড নাম, চমকপ্রদ মাইলেজ, নতুন ডিজাইন এবং সাশ্রয়ী দাম—সব মিলিয়ে এটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

শহরের ব্যস্ত রাস্তায় কিংবা গ্রামের সরু পথ—ডিসকভার ১২৫ তার রাইডারকে দিবে আরাম, সাশ্রয় আর স্টাইলের সমন্বয়। তাই বলা যায়, বাজাজ কেবল একটি বাইক ফিরিয়ে আনেনি, বরং ফিরিয়ে এনেছে একটি স্মৃতি, আস্থা আর নতুন প্রজন্মের জন্য ভরসার প্রতীক।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

এসবিএসি ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা দিতে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি

DMP will toughen traffic laws and speed limits guideline enforcement

ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে জোর, ডিএমপি কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

যমুনার পানি বাড়ছে, সিরাজগঞ্জে তীব্র নদীভাঙনে আতঙ্ক

ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম অঙ্গের অভাবনীয় সাফল্য

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় যুক্ত হলো নতুন আফ্রিকান বন্যপ্রাণী

আগামী ৪ দিন যেমন থাকতে পারে দেশের আবহাওয়া

কর্মসৃজন ও দক্ষতা উন্নয়নে পিকেএসএফের অর্থায়ন ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি, নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

বিজয়নগরে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে, শ্রমিক নিহত

জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

কবিরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২