
প্লাস্টিকের এক রাক্ষুসে গ্রাসে ধুঁকছে পৃথিবী। সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আরাম-আয়েশ বাড়লেও এর চড়া মূল্য চুকাতে হচ্ছে প্রকৃতিকে। প্রতিদিনের ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক) ও বর্জ্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী জলবায়ু, নদীনালা, সমুদ্র এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের এক চরম মোহনায় নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা মূলধারার গণমাধ্যমে ভেসে ওঠা পলিথিন ও প্লাস্টিক বোতলে স্তূপীকৃত সমুদ্রসৈকতের হৃদয়বিদারক চিত্র নিয়মিত নাড়া দিচ্ছে মানববিবেককে।
প্লাস্টিক বর্জ্য গিলে ফেলে মারা যাচ্ছে সামুদ্রিক কাছিম, তিমি, ডলফিন ও অগণিত জলজ প্রাণী। শুধু বাহ্যিক পরিবেশই নয়, অদৃশ্য এক ঘাতক হিসেবে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন দৈনন্দিন পানীয় জল, খাদ্যচক্র এবং মানবদেহের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে তৈরি করেছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। এই সংকট থেকে উত্তরণে বিশ্বজুড়ে এখন কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, বরং বড় কর্পোরেশনগুলোর দায়বদ্ধতা এবং কঠোর নীতিমালার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যান ও চিত্র :
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪৬ কোটি টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। এর একটি বিশাল অংশ, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই হলো সিঙ্গল-ইউজ বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক। এগুলোর স্থায়িত্ব শত শত বছর হলেও মানুষ এগুলো ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মিনিট।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের মাধ্যমে সরাসরি মহাসাগরে গিয়ে মিশছে। ফলস্বরূপ, সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের স্বাভাবিক ভারসাম্য আজ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। খাবার ভেবে এসব প্লাস্টিক গ্রহণের ফলে সামুদ্রিক প্রাণীদের পরিপাকতন্ত্র ব্লক হয়ে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার প্রজাতি।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান নীতি ও ব্যবহারের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে, যা পরিবেশের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সংস্থাটি আরো বলছে, উৎপাদিত মোট প্লাস্টিকের ১০ শতাংশেরও কম সফলভাবে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং করা সম্ভব হয়। এর একটি বড় অংশ (প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি) ল্যান্ডফিল বা খোলা জায়গায় ফেলা হয় এবং বাকি অংশ সরাসরি নদী ও সাগরে গিয়ে জমা হয়।

বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান পেইউ পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং সায়েন্স জার্নাল-এ প্রকাশিত মডার্ন ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটগুলোর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মহাসাগরগুলোতে অন্তত ১৭ কোটি টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৪০ সালের মধ্যে মহাসাগরে প্লাস্টিক দূষণের পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ল (সিআইইএল) এবং স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্লাস্টিকের পুরো জীবনচক্র (উৎপাদন থেকে শুরু করে ধ্বংস করা পর্যন্ত) বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। প্লাস্টিক শিল্প যদি বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বৈশ্বিক কার্বন বাজেটের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ দখল করবে।
জীববৈচিত্রের ওপর নির্মম আঘাত :
প্লাস্টিক বর্জ্য কেবল স্থলভাগেই নয়, জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও ফেলছে মারাত্মক প্রভাব। নদী, হ্রদ এবং মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়া প্লাস্টিক জালের মতো জড়িয়ে ধরে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদের। সামুদ্রিক পাখি ও মাছেরা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলোকে খাদ্য মনে করে খেয়ে ফেলছে, যা তাদের পরিপাকতন্ত্রে জমে ধীরে ধীরে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। অনেক প্রবাল প্রাচীর প্লাস্টিক আবর্জনার নিচে ঢাকা পড়ে পচন ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে, যা সমগ্র সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপর চরম ঝুঁকি :
প্লাস্টিক দূষণ কেবল ময়লা-আবর্জনার দৃশ্যমান সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য জৈবিক সংকটে। সূক্ষ্ম প্লাস্টিক বা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ (৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট কণা) নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের ফুসফুস, অমরা (প্লাসেন্টা) এবং রক্তপ্রবাহে এখন মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলছে। বোতলজাত পানি, সামুদ্রিক মাছ এবং নিত্যদিনের খাবারে এসব ক্ষতিকর কণা মিশে যাওয়ায় মানবদেহে হরমোনজনিত জটিলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরিবেশ রক্ষায় বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা :
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসন বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ আজ আমাদের গ্রহের জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতোই একটি অন্যতম প্রধান অস্তিত্বগত সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এমন এক ভোক্তা সংস্কৃতির মধ্যে বাস করছি যেখানে কয়েক মিনিটের ব্যবহারের প্লাস্টিক শত শত বছর প্রকৃতিতে টিকে থাকে। ব্যক্তিগত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি হলেও, শুধু এর ওপর ভর করে এই সর্বগ্রাসী সংকট সমাধান সম্ভব নয়। বড় বড় কর্পোরেশনগুলোকে তাদের পণ্যের লাইফসাইকেলের পূর্ণ দায়ভার (ইপিআর) নিতে হবে এবং বৈশ্বিক চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্লাস্টিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে হবে।’
প্লিমুথ ইউনিভার্সিটির সামুদ্রিক পরিবেশবিদ ও মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষক ড. রিচার্ড থম্পসন বলেন, ‘আমরা যখন সৈকতে প্লাস্টিকের স্তূপ দেখি, সেটি কেবল দূষণের দৃশ্যমান অংশ মাত্র। আসল বিপদটি লুকিয়ে আছে অদৃশ্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভেতর। প্লাস্টিক ভেঙে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়ে নদী, সমুদ্রের পানি পেরিয়ে আজ মানবদেহের রক্তপ্রবাহ ও খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করেছে। এখনই যদি সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিকের উৎপাদন ও যথেচ্ছ ব্যবহার কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতিকে এক অপূরণীয় স্বাস্থ্যগত মূল্যের মুখোমুখি হতে হবে।’
কর্পোরেট দায়বদ্ধতা এবং অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা :
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক সংকট মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মধ্যে। কেবল সাধারণ মানুষকে সচেতন করে এই বিরাট বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য বহুজাতিক ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্যাকেজিংয়ের জন্য বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতার নীতি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, তারা বাজারে যে পরিমাণ প্লাস্টিক ছাড়বে, তা পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের সম্পূর্ণ দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। পাশাপাশি, লিনিয়ার ইকোনমি থেকে সরে এসে ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বর্জ্যকে পুনরায় সম্পদে রূপান্তরিত করা হবে।

কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ :
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় প্লাস্টিক দূষণের শিকার তীব্রভাবে হচ্ছে বাংলাদেশ। দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার টন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ জাতীয় শহুরে গড়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। ঢাকা শহরের একজন মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ২২ কেজির বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, শুধু ঢাকা মহানগরীতেই প্রতিদিন প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার একটি বড় অংশই পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক।
দেশের প্রধান নদীগুলোর ওপর প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর তলদেশে বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ৫ থেকে ১০ ফুটের পুরু আস্তরণ বা স্তর জমে গেছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশ প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন করে। এর একটি বড় অংশ যত্রতত্র ড্রেন, খাল, নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ে, যার ফলে সামুদ্রিক বা জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
এছাড়া, উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং করা হয়। তবে বাকি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বর্জ্য সরাসরি ল্যান্ডফিল, খোলা মাঠ, নিচু জমি অথবা জলাশয় ও নদীতে নিক্ষিপ্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় প্লাস্টিক দূষণের শিকার তীব্রভাবে হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ জাতীয় শহুরে গড়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি, যা বছরে প্রায় ২২ কেজিরও বেশি। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার টন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে।
তবে আশার কথা হলো, পরিবেশ সুরক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সরকারি অফিস ও সচিবালয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (এসইউপি) নিষিদ্ধকরণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি (ইপিআর) গাইডলাইন। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্যাকেজিং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক, পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘দেশে প্লাস্টিক দূষণ এখন কেবল সাধারণ পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি নদীনালা, ভূগর্ভস্থ পানি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ধরনের অস্তিত্বগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ও প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যার মতো নদীগুলোর তলদেশ আজ প্লাস্টিকের পুরু স্তরে ঢেকে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন বা কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়; এর জন্য আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সহজলভ্য বিকল্প বাজারজাত করতে হবে। একই সঙ্গে ইপিআর নীতিমালা কঠোরভাবে কার্যকর করার কোনো বিকল্প নেই।’
প্লাস্টিক দূষণ রোধে করণীয় :
প্লাস্টিকের করাল গ্রাস থেকে পৃথিবীকে এবং দেশকে রক্ষা করতে হলে বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেমন- একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাট, কাগজ, কাপড় এবং পরিবেশবান্ধব বায়ো-প্লাস্টিকের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পণ্যের প্লাস্টিক মোড়ক ফিরিয়ে নেওয়া ও রিসাইক্লিংয়ের পুরো দায়িত্ব নিতে বাধ্য করতে হবে। পলিথিন ও নিষিদ্ধ প্লাস্টিক উৎপাদনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সুনির্দিষ্ট আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা।