
রাজধানীর পুরান ঢাকা অগ্নিকাণ্ডের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সরু রাস্তা, পুরোনো ভবন ও পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে সেখানে আগুন লাগলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (৪ জুলাই) চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার অধিকাংশ ভবন অনেক আগে নির্মিত হয়েছে। এসব ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই সীমিত এবং ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা পরিকল্পনা (সেফটি প্ল্যান) গ্রহণ করেছে—এমন ভবনের সংখ্যা খুবই কম।
কাজী নজমুজ্জামান বলেন, এসব ভবনকে ধাপে ধাপে ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যানের আওতায় আনতে হবে। খাজা টাওয়ারে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল। সেই সিঁড়ি দিয়ে একজন ওঠানামা করলে অন্যজনের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তীব্র যানজট ছিল। সরু সড়ক ও যানজটের কারণে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার দুপুর দেড়টার পর চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। পরে লালবাগ ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আটতলা বিশিষ্ট হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন। এতে আটটি গুদাম ও আটটি দোকান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৃতীয় তলার একটি ছাতা ও লাইটের গুদাম।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর মার্কেটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।