পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কনকনে হাড় কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এর আগের দিন বুধবার সকাল ৯টায় এখানে তাপমাত্রা ছিল ৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশার ঝরার কারণে তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। এর সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাস যুক্ত হয়ে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঘের শুরুতেই এমন শীতে নাকাল হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিভিন্ন মোড়ে ও চায়ের দোকানের পাশে শীত নিবারণের জন্য আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন শীতার্ত মানুষ। এদিকে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধরা এ শীতে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
চা শ্রমিক সাইফুল ও জামাল জানান, কয়েকদিন ধরে ভোরে প্রচণ্ড হিমশীতল বাতাস ও কনকনে শীতের মধ্যেই চা বাগানে পাতা তুলতে হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে, তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, বর্তমানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ সকাল ৯টায় ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় এ এলাকায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকে। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও তিনি জানান।


