নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজপথ থেকে অন্দরমহল—সর্বত্র কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আর্থ ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে ‘অগ্রযাত্রা নারী ফোরাম’ এই উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ”।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক জাকিয়া শিশির এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মেহনাজ মালা। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, কেবল কঠোর আইন থাকলেই নারী নিরাপদ নয়, বরং আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
সেমিনারে উত্থাপিত মূল দাবি ও বিষয়সমূহ:
বিচারহীনতা রোধ: নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত এবং দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ: স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে, কারণ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি ছাড়া কাঠামোগত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
মূল্যবোধের শিক্ষা: পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ‘সম্মতি’ (Consent) ধারণাটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
মানসিক স্বাস্থ্য: নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য কাউন্সেলিং এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে গণ্য করতে হবে।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বহ্নিশিখার তাসাফি হোসেন, বাদাবন সঙ্ঘের লিপি রহমান, আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আমিনুল ইসলাম এবং সেতুর (SETU) শাগুফতা সুলতানা। এছাড়াও প্রশিকা, সিএলপিএ (CLPA), এজেড গ্রুপ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ‘সব মানুষের জন্য’ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে বক্তারা একমত হন যে, নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার অর্থ হলো পরিবার থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে পুরুষ ও তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ঘরে-বাইরে সহিংসতা বন্ধে একটি সম্মিলিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন অপরিহার্য বলে তারা উল্লেখ করেন।


