
নারায়ণগঞ্জে নদী ও খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যত ক্ষমতাবান কিংবা যে দলেরই হোক না কেন, নদী ও খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন নিষ্কাশন খাল ও সেচ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের বিভিন্ন খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসন মাঠে নেমেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।
রূপগঞ্জের সেচ ও জলাবদ্ধতার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জাপানি প্রযুক্তি ও জাইকার সহায়তায় প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।
তবে সময়ের সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সেচ প্রকল্পের অনেক জমি ও খাল অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। বর্তমানে রূপগঞ্জে প্রায় ৭৪১টি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে রূপগঞ্জে সড়কপথের পাশাপাশি একটি আধুনিক নৌপথ চালু হবে। এতে সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, যানজট নিরসনে সহায়তা করবে এবং মানুষ অল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারবে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম, পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহমেদ, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।