ঢাকারবিবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ঢাকায় নতুন মেট্রোরেল রুট, ৩২ মিনিটে ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ । ৪৩ জন

রাজধানীতে নতুন আরেকটি মেট্রোরেল রুট নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ভাটারা থেকে সাভারের কাছে হেমায়েতপুর পর্যন্ত ‘নর্দার্ন রুট’ নামে পরিচিত এই মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০৩০ সাল।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে জানা গেছে, মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৫ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের নির্মাণকাজ ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত। এর একটি বড় অংশ হবে ভূগর্ভস্থ এবং বাকিটা উড়াল (এলিভেটেড) পথে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ প্রায় ৭৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মূল ট্র্যাক ও স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এই রুটটি হবে ঢাকার প্রথম পূর্ব-পশ্চিমমুখী মেট্রোরেল লাইন। এতে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি ভূগর্ভস্থ এবং ৫টি এলিভেটেড। ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলো নির্মিত হবে গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুখেত, বনানী, গুলশান-২ এবং নতুনবাজার এলাকায়। অন্যদিকে হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় থাকবে এলিভেটেড স্টেশন।

প্রকল্পটি চালু হলে ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত যাত্রা সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩২ মিনিটে, যেখানে বর্তমানে যানজটের কারণে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিটি বৈদ্যুতিক ট্রেন একসঙ্গে ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী বহন করতে পারবে এবং প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে প্রায় ৫৩ হাজার ২০০ যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি প্রায় ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এবং বাকি অর্থ সরকার বহন করবে।

প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের মানের সঙ্গে আপস করা হবে না। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে শব্দ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, এলিভেটেড অংশে ‘কন্টিনিউয়াস ওয়েল্ডেড রেল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং শব্দ কমাতে উভয় পাশে সাউন্ড ব্যারিয়ার ওয়াল নির্মাণ করা হবে।