
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), জনস হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট (জেএইচ-আইআইআরইউ), সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের যৌথ উদ্যোগে ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে সড়ক ব্যবহারে আচরণগত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরের লোকাল ও কালেকটর রোডে ২৪ শতাংশ যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই হার ৫১ শতাংশ। কর্মদিবসের তুলনায় ছুটির দিনে গতিসীমা অতিক্রম করার হার কিছুটা বেশি (কর্মদিবস ২২%, ছুটির দিনে ২৬%)।
ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালে শহরের রাস্তায় সর্বোচ্চ ৪০ কিমি/ঘন্টা ও হাইওয়ে-এক্সপ্রেসওয়েতে ৮০ কিমি/ঘন্টা গতিসীমা নির্ধারণ করেছে। তবে জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা গেছে, অনেক যানবাহন এখনও এই সীমা অতিক্রম করছে।
ডিএনসিসি প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, ২০২৩ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৮৩ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। তিনি সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা দ্বারা সড়ক নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি সম্ভব।
উক্ত অনুষ্ঠানে ডিটিসিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। তারা সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম, গতি নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগে সমন্বয় জোরদার করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, রোড ক্র্যাশ বিশ্বের মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও রোড ক্র্যাশে মৃত্যুর হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। জরিপের মাধ্যমে সড়ক ব্যবহারের আচরণগত ঝুঁকি চিহ্নিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।