
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রাম। মালঞ্চ নদীর তীরবর্তী এই এলাকার মানুষ জোয়ার, নদীভাঙন, লবণাক্ততা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে আসছেন নিয়মিতভাবে। এই প্রতিকূল বাস্তবতার মাঝে এলাকার মানুষের অংশগ্রহণে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়েছে।
উত্তরণ-জুরিখ জলবায়ু সহনশীলতা কর্মসূচির আওতায় এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশের সহায়তায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর তীর ও বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাঁধের ১.৩ কিলোমিটার অংশজুড়ে ৬০০টি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে বাঁধের পাড়কে আরও সুরক্ষিত করে তুলছে। মূলত ম্যানগ্রোভের শিকড় মাটি শক্ত করে ধরে রেখে নদীর স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে মাটি ক্ষয় এবং ভাঙন রোধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করছে।
শুধু রোপণ করাই নয়, প্রকৃতিতে নিজে থেকে জন্ম নেওয়া ম্যানগ্রোভকেও পুনরুদ্ধারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগে। আরও ৬ হেক্টর এলাকায় নেওয়া হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট ন্যাচারাল রিজেনারেশন (এএনআর) পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া গাছ ও চারাগুলোকে গবাদিপশুর বিচরণ থেকে রক্ষা, ক্ষতিকর আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এই পদ্ধতিতে বর্তমানে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫ হাজার ম্যানগ্রোভ চারা বেড়ে উঠছে।
শুরুর দিকে এই পথচলা সহজ ছিল না। গবাদিপশুর বিচরণে কিছু চারা নষ্ট হওয়া এবং নদীর স্রোতে কিছু চারা ভেসে যাওয়ার মতো প্রতিবন্ধকতাও এসেছে। তবে দক্ষিণ কদমতলার মানুষ এতে দমে যাননি; তারা নতুন করে চারা রোপণ করেছেন, নিয়মিত পাহারা দিয়েছেন এবং গাছগুলোকে টিকিয়ে রাখতে নিজেদের উদ্যোগে সুরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন।
স্থানীদের অদম্য উদ্যোগ ও ইতিবাচক পরিবর্তন এখন আশপাশের এলাকার মানুষকেও অনুপ্রাণিত করছে। আশেপাশের মানুষও ম্যানগ্রোভ রোপণ ও সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নিজেদের এলাকায় একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।