
আখ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফসল, যা চিনি, গুড়, ইথানলসহ নানামুখী শিল্পের জন্য অপরিহার্য কাঁচামাল। উৎপাদনের দিক থেকে ব্রাজিল, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড শীর্ষে থাকলেও, ফলনের বিচারে দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। আন্তর্জাতিক কৃষি সংস্থা এফএওর (FAO) তথ্য অনুযায়ী, আখের ফলন বা প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত টনের পরিমাণ দেশভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন।
চীন এখানে শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৯৪.৪ টন আখ উৎপাদিত হয়, যা বিশ্ব গড় ফলন ৭০.৬ টনের চেয়ে অনেক বেশি। চীনের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত সেচ ব্যবস্থা ও উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহারের ফলে আখ উৎপাদনে এ সাফল্য এসেছে। অপরদিকে, থাইল্যান্ড, যেটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আখ উৎপাদক দেশ, সেখানে ফলন মাত্র ৪৪.৩ টন/হেক্টর। কম বৃষ্টিপাত, মাটির সীমাবদ্ধতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপে দেশটির আখ ফলন বিশ্ব গড়ের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে।
ভারত, যা বিশ্বে আখ উৎপাদনে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে একটি, সেখানে প্রতি হেক্টরে ফলন ৭৮.৬ টন। এ ফলন বিশ্ব গড়ের উপরে থাকলেও, চীনের তুলনায় এখনও পিছিয়ে। ভারতের কৃষি খাতে ক্রমবর্ধমান সেচ সুবিধা, গবেষণাভিত্তিক জাত উন্নয়ন এবং সরকারি ভর্তুকি আখ উৎপাদনকে বাড়াতে সাহায্য করছে।
ব্রাজিল, যেটি এককভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আখ উৎপাদন করে, সেখানে প্রতি হেক্টরে ফলন দাঁড়িয়েছে ৭১.৮ টন। দেশটিতে বিশাল আকারের আখখেত, যান্ত্রিক চাষাবাদ এবং বৃহৎ আকারে ইথানল উৎপাদনের কারণে আখ খাতটি বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
পাকিস্তানে প্রতি হেক্টরে ফলন ৭০.৩ টন। দেশটি আখের চাষে দীর্ঘদিন ধরে এগিয়ে থাকলেও, পানির ঘাটতি, কৃষি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এর উৎপাদন বৃদ্ধিকে সীমিত করছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে স্পষ্ট যে, আখ উৎপাদনের মোট পরিমাণে ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলো এগিয়ে থাকলেও, ফলনের ক্ষেত্রে চীন অনেক বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলিকে প্রযুক্তি উন্নয়ন, কৃষি গবেষণা ও পানি ব্যবস্থাপনায় আরও বিনিয়োগ করতে হবে।
বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে আখ উৎপাদনের টেকসইতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির ঘাটতি এবং কৃষি শ্রমিক সংকট আখ খাতকে প্রভাবিত করছে। তবে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নত জাত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশগুলো ফলন বৃদ্ধি করতে পারলে বৈশ্বিক চিনিশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।