
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানা গলদ তুলে ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, শুধু সংস্কার নয়, প্রয়োজন হলে সিস্টেম ভেঙে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “সিস্টেমের ভুল ঠিক না করলে আমরা সিস্টেমের মধ্যে পিষ্ট হতেই থাকব। এখনই ভাবতে হবে কীভাবে এই সমস্যা থেকে বের হওয়া যায়।”
রোববার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নূরজাহান বেগম বলেন, “ক্যানসারের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। স্বজনদের রাস্তায় রাত কাটাতে হয়। এখানে আগে ছয়টি মেশিন ছিল, এখন চালু আছে মাত্র দুইটি। বাকিগুলো নষ্ট। পরিবারে ক্যানসার মানেই এক ধরণের দুর্যোগ। রোগীরা যেন যথাযথ চিকিৎসা পান, আমরা সেই ব্যবস্থাই চাই।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক ঘরেই নারী আছে। তাদের সচেতন করতে হবে। এখন তরুণ বয়সেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। তামাকের কারণেও বহু ধরনের ক্যানসার হয়, কিন্তু আমরা তামাক প্রতিরোধে পুরোপুরি সফল হতে পারছি না।”
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সায়েদুর রহমান বলেন, “ক্যানসার একটি ভয়াবহ রোগ। দেশে ভালো সার্জন বা চিকিৎসা কোথায় পাওয়া যাবে, অনেকেই তা জানেন না। ক্যানসার চিকিৎসায় এখনও অনেক দুর্বলতা রয়েছে। এ ব্যাধি মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, ফুসফুস ও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভাগীয় শহরে ক্যানসার কেন্দ্র চালু হলে সেবার পরিধি বাড়বে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমবে।
তিনি বলেন, “দেশেই ক্যানসারের বিশ্বমানের সেবা দেওয়া সম্ভব। চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট থাকলেও অধিকাংশ ক্যানসারের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ক্যানসার শুধু একটি রোগ নয়, এটি একটি যুদ্ধ। বেঁচে থাকার লড়াই রোগীকে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যেতে হয়।”