চৈত্র ও বৈশাখ মাস এলেই দেশের আকাশে ঘনিয়ে আসে কালো মেঘ, শুরু হয় বজ্রপাতসহ তীব্র ঝড়। এই সময়েই কেন কালবৈশাখীর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি—তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানের ভাষায় ‘নর-ওয়েস্টার’ (Nor’wester) নামে পরিচিত এই ঝড় মূলত সৃষ্টি হয় ভূ-প্রকৃতি, বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা এবং তীব্র গরমের সম্মিলিত প্রভাবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসে সূর্যের কিরণ প্রায় লম্বভাবে পড়ায় বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের স্থলভাগ অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে বাতাস হালকা হয়ে উপরে উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয় নিম্নচাপ।
এদিকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র ও শীতল বায়ু উত্তরমুখী হয়ে এই নিম্নচাপের দিকে ধাবিত হয়। আর্দ্র বায়ু উপরে উঠে শীতল স্তরে পৌঁছালে তা ঘনীভূত হয়ে সৃষ্টি করে বিশাল আকৃতির কিউমুলোনিম্বাস মেঘ, যা কালবৈশাখীর প্রধান উৎস।
এই মেঘের ভেতরে জমে থাকা জলীয় বাষ্প বৃষ্টি বা শিলা হয়ে নিচে নামার সময় ওপরের ঠান্ডা বাতাসকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসে। বায়ুর এই চাপের ভারসাম্য রক্ষার প্রক্রিয়াতেই সৃষ্টি হয় শক্তিশালী ঝড়ো হাওয়া, যা অনেক সময় ভয়াবহ রূপ নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের তীব্র গরম, হিমালয়ের শীতল বায়ু এবং বঙ্গোপসাগরের আর্দ্রতা—এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়েই কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয় এবং চৈত্র-বৈশাখে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
তারা আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝড়ের তীব্রতা ও অস্থিরতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে, তাই এ সময় সতর্ক থাকা জরুরি।


