ঢাকাসোমবার , ২২ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কৃষক সমবায় শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে কোস্ট ফাউন্ডেশনের কর্মশালা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ বিকাল

Link Copied!

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা দেশের খাদ্য উৎপাদনের মূল স্তম্ভ হলেও পুষ্টিহীনতা, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের আয় ও জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে কৃষক সমবায় সংগঠনগুলো টেকসই কৃষি উন্নয়ন, যৌথ বাজারজাতকরণ এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) কোস্ট ফাউন্ডেশন এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ঢাকার গুলশান-২ লেকশোর হোটেলে জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী কর্মশালার আয়োজন করেছে। পাঁচ বছরের সমবায়ভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি অর্জিত অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণই ছিল কর্মশালার মূল লক্ষ্য।

কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, একাডেমিক প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকরা দেশের মোট খাদ্যের ৬০-৭০% উৎপাদন করলেও প্রায়শই পুষ্টিহীনতা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন বলেন, ফসলের আগে যথাযথ পরিকল্পনা ও পণ্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইফাদ (IFAD) এশিয়া ও প্যাসিফিক ডিভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার মিস ম্যারিয়েল জিমারম্যান বলেন, কর্মসূচির সফল কেইস স্টাডি সুসংগঠিতভাবে প্রচার করা হলে তা ব্যাপকভাবে অনুকরণযোগ্য ও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মোহসিন আলী উল্লেখ করেন, পরিবেশবান্ধব কৃষি, জৈব সার এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের জীবন-জীবিকা এবং ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, রাসায়নিকভিত্তিক কৃষির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে পরিবেশগত কৃষিতে ফিরে আসা জরুরি। উপ-নির্বাহী পরিচালক সনত কুমার ভৌমিক জানান, কর্মসূচির আওতায় ৬টি কৃষক সংগঠনকে ঘূর্ণায়মান তহবিলের মাধ্যমে ২.০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে যুব সমাজের কৃষিতে সম্পৃক্ততা ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, ইতিবাচক উদাহরণগুলো প্রচার করলে তরুণদের কৃষিতে আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে। সমবায় কাঠামো কৃষকদের ক্ষমতায়ন করে, যৌথভাবে বাজারে প্রবেশ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলো দেশীয় বীজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং সরকারের কৃষি সংস্থাগুলো মূল্য পর্যবেক্ষণ ও প্রণোদনার মাধ্যমে সমর্থন দিতে পারে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া যুব কৃষক ও উদ্যোক্তারা তাদের সফলতার গল্প উপস্থাপন করেন। সরিষার তেল উৎপাদন, হাঁস পালন, নিরাপদ সবজি চাষ এবং সুন্দরবনের প্রান্তিক মধু সংগ্রহের মাধ্যমে কৃষকরা উৎপাদন বৃদ্ধি, আয় বৃদ্ধি ও বাজার সংযোগে সফল হয়েছেন।

সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা এক অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন-কৃষক সমবায়কে শক্তিশালী করা, সমবায়কে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আইনি আওতায় আনা, নারী ও তরুণ কৃষকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সমবায় সম্প্রসারণকে আরও বিস্তৃত করা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

মাদারীপুরে বাঁশবোঝাই ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ প্রবাসী নিহত: জমিয়ত সভাপতির শোক

আগামী ৫ দিনজুড়ে ঝড়সহ ভারী বর্ষণের আভাস

Call for science-based prevention to keep youth drug-free

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিরোধের আহ্বান

প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী

শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি: পরিবেশমন্ত্রী

মানিকগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

নরসিংদীতে অযু করার সময় বজ্রপাতে তিন মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিন বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা

সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন কক্সবাজার, চরম ভোগান্তিতে বাসিন্দা-পর্যটক

বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণে নিষেধাজ্ঞা